অভিশংসনের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে অপসারণ

জরুরি অবস্থার জেরে অভিশংসনের পর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে অপসারণ করেছেন সাংবিধানিক আদালত। এর ফলে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে দেশটিতে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ইউন গত বছর সামরিক আইন জারি করে জনগণের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছেন। রায় ঘোষণার পর ইউনবিরোধীরা পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে পড়ে এবং উল্লাস করতে থাকেন।মাঠের উল্লাস দেখে বিবিসির এক সংবাদদাতা বলেন, মনে হচ্ছে যেন দক্ষিণ কোরিয়ার দল বিশ্বকাপ জিতেছে। অপরদিকে, ইউনপন্থিরা এমন খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এক যুবক বলেন, “এটা (রায়) বোধগম্য নয়।” আরেক যুবক বলেন, “দক্ষিণ কোরিয়া শেষ।” রায় ঘোষণার পর অভিশংসনের প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আইনপ্রণেতা জং চুং বলেন, “এটি সংবিধান, গণতন্ত্র এবং জনগণের জন্য একটি বিজয়।” তিনি আরো বলেন, “আমি জনগণকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যারা গণতন্ত্রের শত্রুকে পরাজিত করেছেন।” এর আগে আইন প্রণেতাদের দ্বারা অভিশংসিত হওয়ার পর ইউনকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ থেকে অপসারণ করা হবে কি-না তা নির্ধারণের জন্য আদালত কয়েক সপ্তাহ ধরে অভিশংসন শুনানি করে। পরে আজ প্রেসিডেন্টের অভিশংসন মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।  ইউনই প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট যিনি সামরিক আইনের জারি করে বিদ্রোহের অভিযোগে ফৌজদারি মামলায় বিচারের মুখোমুখি হলেন।  গত ৩ ডিসেম্বর ইউন সামরিক আইন ঘোষণা করে। হঠাৎ করেই সামরিক শাসন জারি করার পর রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। তবে সামরিক শাসন জারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রচণ্ড বিরোধিতার মুখে সেটি তিনি বাতিল করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে ইউনের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান উস্কে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর ১৫ জানুয়ারিতে তিনি গ্রেপ্তার হন।