অবসরের ঘোষণা ৮ বিশ্বকাপজয়ী হিলির

অবসরের ঘোষণা দিলেন অস্ট্রেলিয়া নারী দলের অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি। আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে দেশের মাঠে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই ৮টি বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবময় ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন হিলি। আড়াই মাস আগে অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে যায় সেমিফাইনালে হেরে। চার বছর পরের বিশ্বকাপে হিলির থাকার কোনো সম্ভাবনা এমনিতে ছিল না। তবে পাঁচ মাস পরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেখানে খেলেই বিদায় বলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু ৩৫ বছর বয়সী তারকা থেমে যাচ্ছেন আগেই। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলবেন হিলি। এরপর পার্থে দিন-রাতের টেস্ট ম্যাচটিই হবে তার শেষ ম্যাচ। টি-টোয়েন্টি সিরিজটিতে তিনি খেলবেন না। যাতে সামনের বিশ্বকাপের জন্য দলটাকে গুছিয়ে নিতে সুযোগ দেওয়া হয় অন্য কাউকে।

অবসরের কারণ ঘোষণায় শুরুতে মজা করলেন হিলি। জীবনসঙ্গী আরেক তারকা মিচেল স্টার্কের কাছে গলফ খেলায় হেরে গেছেন, সেখানে উন্নতি করতে হবে, ক্রিকেটকে পাশে সরিয়ে রাখত চান, এসব বলে হেসে উঠলেন। পরে বললেন, মূলত চোট আর মানসিক ক্লান্তির কারণেই বেশ কিছুদিন ধরে ভাবছিলেন এটা নিয়ে।

হিলি জানান, অনেক দিন ধরেই এটা নিয়ে ভাবছিলাম। গত কয়েক বছর মানসিকভাবে অনেকটাই শুষে নিয়েছিল যে কোনো কিছুর চেয়ে। কিছু চোটেও প্রবলভাবে ভুগতে হয়েছে এবং সবটুকু উজাড় করে দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছিল। আমার সবসময়ই মনে হয়েছে, মাঠে লড়াই করতে চাই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মনোভাব নিয়ে। সবসময় জিততে চাই, মাঠে নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে চাই। বয়সও কিছুটা বেশি হয়ে গেছে বলে অনুভব করছি। অবশ্যই সব তাড়না হারিয়ে ফেলিনি, তবে কিছু হারিয়ে ফেলেছি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১০ টেস্ট, ১২৩ ওয়ানডে ও ১৬২ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন হিলি। জিতেছে ছয়টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ। উইকেটের সামনে ও পেছনে গড়েছেন অনেক রেকর্ড। আইসিসির বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার হয়েছেন দুই দফায়, অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটারও হয়েছেন। শুধু সংখ্যা আর অর্জনেই নয়, ছাপ রেখেছেন তিনি খেলার ধরন ও মানসিকতায়। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে নারী ক্রিকেটকে নিয়ে গেছে নতুন উচ্চতায়। মেয়েদের ক্রিকেটে সত্যিকারের একজন কিংবদন্তি তিনি।

আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলে বিদায় নেওয়ার ভাবনা মাথায় এসেছিল বলে জানালেন হিলি। তবে শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে পরিবার ও সমর্থকদের সামনে দলকে নেতৃত্ব নিয়ে বিদায় নেওয়াকেই শ্রেয় মনে করেছেন তিনি। হিলির জীবনসঙ্গী স্টার্ককে নিয়েও নতুন করে বলার কিছু নেই। তার চাচা ইয়ান হিলি ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা কিপারদের একজন।