১৭২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন

17

ভর্তুকি মূল্যে এক কোটি পরিবারের কাছে বিক্রির জন্য এক কোটি ৬৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার ৩টি প্রস্তাবসহ মোট ১০টি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এজন্য মোট ব্যয় হবে ১৭২৬ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার ৯২৩ টাকা।

বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকার ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।  সভা শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল বারিক।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২১তম এবং সরাকরি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৮তম সভা হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদনের জন্য ২টি এবং ক্রয় কমিটির অনুমোদনের জন্য ১১টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। ক্রয় কমিটির প্রস্তাবগুলোর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের ৩টি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ৩টি, স্থানীয়  সরকার বিভাগের ২টি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ১টি, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১টি এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রস্তাব ছিল। ক্রয় কমিটির অনুমোদিত ১০টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ  ১৭২৬ কোটি ৮ লাখ ৪১ হাজার ৯২৩ টাকা।

অতিরিক্ত সচিব বলেন, ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক, দাখিল, শিক্ষক নির্দেশিকা এবং কারিগরি স্তরের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের দরপ্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের জন্য ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের ইবতেদায়ি (১ম ও ২য় শ্রেণি), মাধ্যমিক (বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন), ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণি, দাখিল স্তরের ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণি, শিক্ষক নির্দেশিকা এবং কারিগরি (ট্রেড বই) ১৮২টি লটে ১১ কোটি ২০ লাখ ১ হাজার ৪৭৪টি বই মুদ্রণ, বাঁধাই ও সরবরাহের জন্য উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ১৫০২টি দরপত্র জমা পড়ে। তার মধ্যে ১২০৩টি দরপত্র রেসপনসিভ হয়। টিইসি কর্তৃক সুপারিশকৃত ১৮২টি লটে রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান এসব বই সরবরাহ করবে। এজন্য ব্যয় হবে ৪৮৯ কোটি ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৯২৬ টাকা। মোট বইয়ের সংখ্যা ১১ কোটি ২০ লাখ ১ হাজার ৪৭৪টি।  প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকের গড় মূল্য ৪৩.৬৮ টাকা।

তিনি বলেন, ‘রূপপুর গ্রীণ সিটি আবাসিক কমপ্লেক্স-এ এক্সটারনাল ইলেক্ট্রিফিকেশন ওয়ার্কস অব ১৫০০ এসএফটি ফোর ইউনিটস টুয়েনটি স্টোরেড টু বিল্ডিং-এর ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। প্রকল্পটির জন্য উন্মুক্ত পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ৩টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। তার মধ্যে কারিগরিভাবে মাত্র ১টি প্রস্তাব রেসপনসিভ হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি একমাত্র রেসপনসিভ দরদাতা প্রতিষ্ঠান মজিদ সন্স কন্সট্রাকশন লিমিটেডকে সুপারিশ করে। প্রকল্পে ব্যয় হবে ৪১ কোটি ৮৬ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা।

সভায় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির আওতায় মরক্কোর থেকে ৮ম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানি প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। বিএডিসি কর্তৃক মরক্কো হতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে ডিএপি সার আমদানি করা হয়। সার আমদানি চুক্তিতে উল্লিখিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসারে মরক্কো থেকে ৮ম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানিতে প্রতি মেট্রিক টন টিএসপি সার ৬৮৭.২৫ মার্কিন ডলার হিসেবে ২ কোটি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ব্যয় হবে ২২১ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার ৩৫৭ টাকা।

অতিরিক্ত সচিব জানান, রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে কাতার থেকে ৪র্থ লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। কাতার থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে ৬ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী সারের মূল্য নির্ধারণ করে প্রতি মেট্রিক টন ৭২৪.৫০ মার্কিন ডলার হিসেবে ৪র্থ লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড প্রিল্ড ইউরিয়া সার আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ২ কোটি ১৭ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০৬ কোটি ৫৯ লাখ ১১ হাজার ৭৫০ টাকা।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে কাতার থেকে ৫ম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। কাতারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী সারের মূল্য নির্ধারণ করে প্রতি মেট্রিক টন ৭৩৩.৩৩ মার্কিন ডলার হিসেবে ৪র্থ লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ২ কোটি ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০৯ কোটি ১০ লাখ ৯০ হাজার ৪৯৫ টাকা।

সভায় কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), বাংলাদেশ এর কাছ থেকে ৫ম লটে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার একটি প্রস্তাব আরো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে।

অতিরিক্ত সচিব জানান, টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের ১ কোটি পরিবারের কাছে প্রতি মাসে ভর্তুকি মূল্যে সয়াবিন বিক্রির লক্ষ্যে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবি কর্তৃক তিনটি প্রস্তাবে পৃথক ৩টি লটে প্রতি লটে ৫৫ লাখ লিটার হিসেবে মোট ১ কোটি ৬৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। স্থানীয়ভাবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই সয়াবিন তেল কেনা হবে। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৮৫টাকা হিসেবে মোট খরচ হবে ৩০৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সুপার রিফাইনারি অয়েল লিমিটেড, ঢাকা ৫৫ লাখ লিটার, সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, ঢাকা ৫৫ লাখ লিটার এবং মেঘনা এডিবল অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড, ঢাকা ৫৫ লাখ লিটার সয়াবিন তেল সরবরাহ করবে।