১১ আরোহী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার

ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশে নিখোঁজ হওয়া মৎস্য নজরদারি বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিমানে থাকা ১১ জন আরোহীকে এখনো পাওয়া যায়নি। কুয়াশাচ্ছন্ন একটি পাহাড়ি এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। খবর রয়টার্সের। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্টের মালিকানাধীন এটিআর ৪২-৫০০ মডেলের টার্বোপ্রপ বিমান শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মারোস অঞ্চলের আকাশসীমায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিমানটিতে আটজন ক্রু এবং তিনজন যাত্রী ছিলেন। যাত্রীরা ইন্দোনেশিয়ার সামুদ্রিক বিষয়ক ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের কর্মী। মৎস্য নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয় বিমানটি ভাড়া করেছিল। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দক্ষিণ সুলাওয়েসির উদ্ধারকারী সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার স্থানীয় টেলিভিশনে বলেন, ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার পর এখন নিখোঁজ যাত্রী ও ক্রুদের সন্ধানে ১ হাজার ২০০ উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হবে। তিনি বলেন, “আমাদের অগ্রাধিকার হলো ভিকটিমদের খুঁজে বের করা এবং আমরা আশা করছি যে তাদের কয়েকজনকে আমরা নিরাপদে উদ্ধার করতে পারব।”

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে বিমানটি ইয়োগিয়াকার্তা প্রদেশ থেকে রওনা হয়ে দক্ষিণ সুলাওয়েসির রাজধানী মাকাসারের দিকে যাচ্ছিল। দক্ষিণ সুলাওয়েসির উদ্ধারকারী সংস্থার কর্মকর্তা আন্দি সুলতান জানান, রবিবার সকালে স্থানীয় উদ্ধারকারীরা মারোস অঞ্চলের মাউন্ট বুলুসারাউং-এর আশেপাশে বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান। পাহাড়টি দেশটির রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। সুলতান সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের হেলিকপ্টার ক্রুরা সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে বিমানের জানালার ধ্বংসাবশেষ দেখতে পান। এরপর সকাল ৭ টা ৪৯ মিনিটের দিকে আমরা বিমানের বড় একটি অংশ দেখতে পাই, যা বিমানের ফিউজলেজ (মূল কাঠামো) বলে ধারণা করা হচ্ছে।” তিনি আরো যোগ করেন, পাহাড়ের ঢালের নিচে বিমানের পেছনের অংশও দেখা গেছে। সুলতান জানান, যেখানে ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে সেখানে উদ্ধারকারীদের পাঠানো হয়েছে। তবে ঘন কুয়াশা এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে তল্লাশি অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ধারকারী সংস্থার শেয়ার করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ঘন কুয়াশা ও প্রবল বাতাসের মধ্যে পাহাড়ে বিমানের একটি জানালা ছড়িয়ে ছিঁড়ে পড়ে আছে। সুলতান আরো জানান, ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিটি এই দুর্ঘটনার তদন্তে নেতৃত্ব দেবে। দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ দুর্ঘটনা একাধিক কারণের সমন্বয়ে ঘটে থাকে। ফরাসি-ইতালীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এটিআর-এর তৈরি এটিআর ৪২-৫০০ মডেলটি একটি আঞ্চলিক টার্বোপ্রপ বিমান, যা ৪২ থেকে ৫০ জন যাত্রী বহনে সক্ষম। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার ২৪ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছে, বিমানটি সমুদ্রের ওপর দিয়ে কম উচ্চতায় উড়ছিল, যার ফলে এর ট্র্যাকিং কভারেজ সীমিত ছিল।