হাজার পেনাল্টি নেওয়া স্পেনের বিদায়, মরোক্কো গড়লো ইতিহাস

112

আচরাফ হাকিমির নেওয়া চতুর্থ পেনাল্টি শটটি গোললাইন অতিক্রম করতেই উল্টো দৌড়ে দিলেন তিনি। সতীর্থরাও ছুটে এলেন দিগ্বিদিক। গ্যালারি জুড়ে মরোক্কান সমর্থকদের গগণবিদারী উল্লাস, খুশির জোয়ার। চোখে অশ্রুজল। কোচ ওয়ালিদ রেগ্রাগুই ডাগআউটের উল্টোদিকে ঘুরে দৌড় দিলেন কিছুটা। এমন মুহূর্ত ঠিক কিভাবে উদযাপন করবেন বুঝে উঠতে পারলেন না। তাইতো ব্রেন ফেড অবস্থায় মাথা চাপড়ালেন কিছুক্ষণ। অবিশ্বাস্য এক মুহূর্ত। ইতিহাস গড়া এক মুহূর্ত।

এদিন এজুকেশন সিটি স্টেডিয়ামে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে শুরু থেকেই দারুণ লড়াই করছিল মরোক্কো। প্রথমার্ধে স্পেনের চেয়ে বেশি সুযোগও তৈরি করেছিল। কিন্তু জালের নাগাল পায়নি। নাগাল পায়নি স্পেনও। বিরতির পরও সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে লড়াই চলে সমানে-সমান। তাতে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হয় গোলশূন্যভাবে। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও চলে লড়াই, গোল মিসের মহড়া। তাতে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও ভাঙে না সমতা। এরপর ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।

পেনাল্টি শ্যুটআউটে প্রথমে কিক নেয় মরোক্কো। প্রথম শটেই গোল করেন আব্দেলহামিদ সারির। স্পেনের প্রথম কিক নেন পাবলো সারাবিয়া, তিনি মেরে দেন পোস্টে। এরপর মরোক্কোর হাকিম জিয়েখ কিক থেকে গোল করেন। স্পেনের পরের শট নেন কার্লোস সোলের। কিন্তু ধরে ফেলেন মরোক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। পর পর দুই পেনাল্টি মিস করে পিছিয়ে যায় স্পেন।

তৃতীয় শট নেন মরোক্কোর বদর বেনুন। কিন্তু তার শট রুখে দেন স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন। সার্জিও বুসকেটসের নেওয়া স্পেনের তৃতীয় শটও রুখে দেন ইয়াসিন। এরপর আচরাফ হাকিমি তাদের চতুর্থ শট থেকে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ইতিহাসের পাতায় তুলে দেন দলকে। অবশ্য এমন ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক তাদের গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।

অন্যদিকে লজ্জার ইতিহাস গড়ে স্পেন। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো তারা। আর টানা দ্বিতীয়বারের মতো। ২০১৮ সালেও তারা রাশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছিল শেষ ষোলো থেকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। ভাগ্য নাকি সাহসীদের পক্ষে যায়। তাহলে মরোক্কো ভাগ্যবান। দুর্ভাগ্য স্পেনের।