স্বল্পসময়ে স্বল্পখরচে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে : প্রধান বিচারপতি

154

প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বিচারক ও আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনারা আছেন বলেই সমাজে শৃঙ্খলা আছে। সমাজে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এবং সুস্থ ও সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে আপনারা অগ্রণী ভূমিকা রাখেন বলে বিচারপতি ক্রিস্টিয়ার আপনাদের সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এসম্মান আপনাদের ধরে রাখতে হবে।

শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির শতবর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথর বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বাংলাদেশ আইন কমিশনের সদস্য বিচারপতি এ.টি.এম. ফজলে কবীর। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জবদুল হকের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন- জেলা ও দায়রা জজ মোহা. আদীব আলী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার, ঢাকা বার কাউন্সিলের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান রবিউল আলম বুদু, অ্যাডভোকেট শাহজাহান বিশ্বাস, জেলা আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম কনক। এসময় জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁন, পুলিশ সুপার এএইচএম আবদুর রকিব উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি আরো বলেনÑ বছরের পর বছর যখন কোনো মামলা নিষ্পত্তি হয় না, বিচারপ্রার্থীরা যখন আদালতে ঘুরে ঘুরে নিঃশেষ হতে থাকে, সহায় সম্বল হারায়; তখন বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থাহীনতা বেড়ে যায়। তাই এই কালচার থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। যারা আদালতে ঘুরে ঘুরে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব মামলা নিষ্পত্তি করবেন। আমাদের লক্ষ্য একটাই হবে, সেটা হলো স্বল্পসময়ে স্বল্পখরচে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। আদালতের সম্মান রক্ষার দায়িত্ব আইনজীবী, বিচারকগণ ও প্রত্যেক নাগরিকের। আর এই সম্মান আমাদের রাখতে হবে নিজেদের স্বার্থে, আদালতের স্বার্থে এবং এই দেশের জনগণের স্বার্থে।
তিনি বলেন- বিচার বিভাগ মহান সংবিধানের শেষ রক্ষা কবজ। আপনারা সেই বিচার বিভাগেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি সবসময় বলি, বার ও বেঞ্চ পরস্পরের পরিপূরক। বার না থাকলে বিচার হবে না, আবার বেঞ্চ না থাকলেও বিচার হবে না। কাজেই পরস্পরের প্রতি সহনশীলতা ও সম্মান দেখাতে হবে। আপনাদের মধ্যে শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মনোভাব না থাকলে বিচার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, বিচারপ্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন- আপনারা প্রত্যেকেই দেশপ্রেমিক, আপনারা আদালতকে ভালোবাসেন, ভালোবাসেন আদালতের সিস্টেমকে। আসুন, আমরা সবাই মিলে এমন একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করি যাতে করে বিচার ব্যবস্থা এগিয়ে যায়, দেশ এগিয়ে যায়, বিচার ব্যবস্থা ও রাষ্ট্র গতিশীল হয়। বিচার ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন- আসুন, আমরা দারিদ্র্যমুক্ত হই, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করি, দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি। তিনি বলেন, দুর্বলকে সাহায্য করব এবং শান্তিতে থাকার ব্যবস্থা করব, একাত্তরের রক্তদানকে সার্থক করব, বিচার ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাব, আমরা বিচারের বাণীকে নিভৃতে কাঁদতে দেব না। আমরা পরিশ্রম করে জিততে চাই, আমরা একাত্তরে জিতেছি, আমরা জিতব ইনশাআল্লাহ। আইনজীবী ভাই-বোনেরা আপনারা সূর্যের মতো জ্বলজ্বল করে জ্বলবেন, নিজেদের আলোকিত করবেন, জনগণকে আলোকিত করবেন, আলোকিত করবেন বিচার বিভাগকে। এই শতাব্দী অর্থনীতির শতাব্দী, এই শতাব্দী আমাদের জন্য।
প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
বাংলাদেশ আইন কমিশনের সদস্য বিচারপতি এ.টি.এম. ফজলে কবীর বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরেন।
এর আগে প্রধান বিচারপতি আদালত প্রাঙ্গণে আগত বিচারপ্রার্থীদের জন্য বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’র ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করেন এবং আদালত প্রাঙ্গণে আমগাছের চারা রোপণ করেন।
এর আগে সকাল ১০টায় জেলা আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়। বিকেল সাড়ে ৩টায় আইনজীবীরা স্মৃতিচারণ করেন। শেষে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।