সৌদি আরবের পর দোহায় পৌঁছালেন শাহবাজ শরীফ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনা এগিয়ে নিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে কাতারের দোহায় পৌঁছেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রসারের লক্ষ্যে তিন দেশ সফরের অংশ হিসেবে আজ শাহবাজ শরীফ দোহায় পৌঁছেছেন। এরপর কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সাদ আল-মুরাইখি এর নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এরপর দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল শাহবাজ শরীফকে গার্ড অফ অনার প্রদান করে।

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতরি মধ্যে ইসলামাবাদে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় ব্যর্থ হওয়ায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় দফায় আলোচনা এগিয়ে নিতে চার দিনের সফরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সফরে যাচ্ছেন। সফরের প্রথম পর্বে সৌদি আরবের পর তিনি তিনি কাতারে গেলেন। এদিকে শাহবাজ শরীফের সফরকে ঘিরে কাতারের বিমানবন্দরে এবং দেশটির রাজধানীর বিভিন্ন অংশে পাকিস্তানের পতাকা ব্যাপকভাবে প্রদর্শন করা হয়, যা দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে প্রতিফলিত করে।

এই সফরকালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দেশটির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে। আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের চলমান প্রচেষ্টা নিয়ে মতবিনিময় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তারিক ফাতেমি এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরব সফরের পর প্রধানমন্ত্রী তুরস্কেও যাবেন। এতে আরও বলা হয়েছে, সৌদি আরব ও কাতার সফর দ্বিপাক্ষিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী চলমান সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করবেন। তুরস্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী আন্তালিয়া কূটনীতি ফোরামে অংশগ্রহণ করবেন, যেখানে তিনি অন্যান্য বিশ্ব ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে নেতাদের প্যানেলে যোগ দেবেন এবং পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরবেন।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুসারে, তুরস্কে ফোরামের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বহু প্রতীক্ষিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, যা শনিবার থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত চলেছিল। এটি এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে প্রথম সরাসরি বৈঠক এবং ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েকদিন পরেই এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হলো। ২১ ঘণ্টার তীব্র আলোচনা সত্ত্বেও দুই পক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ ও প্রস্থানকারী সমস্ত সামুদ্রিক যান চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং ট্রাম্প বলেছেন যে এটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে পারে।