সাইকেলের শহর আমস্টারডাম

208
আমস্টারডাম হলো নেদারল্যান্ডের রাজধানী এবং অন্যতম প্রধান শহর। উত্তর সাগরের পাশেই এর অবস্থান। ফূর্তিবাজ, ভ্রমণপ্রিয়, ইতিহাসবোদ্ধা সবার জন্যই এটি একটি কাঙ্ক্ষিত শহর। শহরের হৃদয় দিয়ে রক্তনালীর মতো প্রবাহিত ক্যানেল। ক্যানেলের ভেতর ভেসে যাচ্ছে নৌকা, স্টিমার। স্পিডবোটও রয়েছে। রয়েছে ওয়াটার বাস। ক্যানেলের দুই ধারে মধ্যযুগীয় গির্জা, রাজপ্রাসাদ। আমস্টারডামকে ভাসমান শহরও বলা হয়ে থাকে। পুরো শহরে রয়েছে ১৬৫টি খাল। এ কারণেই এটিকে ভাসমান শহর বলা হয়। এছাড়াও এতে রয়েছে ৯০টি ছোট, বড় দ্বীপ আর প্রায় এক হাজার ২০০শ এর কাছাকাছি সেতু। মূলত মাছ ধরার একটি ছোট গ্রাম থেকে আজ ইউরোপের একটি উন্নত শহর হচ্ছে আমস্টারডাম। আমস্টারডামে প্রায় আট লাখ মানুষের বসবাস। রাজধানী ঢাকা যেরকম রিকশার শহর হিসেবে পরিচিত, ঠিক তেমনি আমস্টারডাম হচ্ছে সাইকেলের শহর। এখানে ছোট-বড়, ছেলে-মেয়ে সকলেই সাইকেল চালায়। রাস্তার পাশে সারিবদ্ধভাবে সাজানো থাকে সাইকেল। আমস্টারডামে নিরাপদে বাইক চালানোর জন্য রয়েছে প্রশস্ত রাস্তা। বলা হয়ে থাকে যে, আমস্টারডামে বসবাসরত মানুষের তুলনায় বাইকের সংখ্যার বেশি!

আমস্টারডামে অনেকগুলো জাদুঘর রয়েছে। এর মধ্যে রাজকীয় রিকস মিউজিয়াম, ভ্যানগঘ মিউজিয়াম, আনা ফ্রাঙ্ক মিউজিয়াম, মাদাম তুশোর আমস্টারডাম শাখা, হার্মিটেজ এবং আমস্টারডাম মিউজিয়াম বেশি বিখ্যাত। রিকস মিউজিয়ামটি একসময় ছিল রাজপ্রাসাদ। ১৮৮৫ সালে জাদুঘর হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়। রিকস মিউজিয়ামে রয়েছে বিশ্ববিখ্যাত ডাচশিল্পীদের চিত্রকর্মের সবচেয়ে বড় সংগ্রহ। ভ্যান ডার হেস্ট, ভারমির, ফ্রানস হালস, ফার্ডিনান্দ বল, অ্যালবার্ট সুপ, জ্যাকব ভ্যান রুইসডেল, পাউলুস পটারের মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের চিত্রকর্ম রয়েছে এখানে। আরও রয়েছে মধ্যযুগের বিভিন্ন শিল্প সামগ্রী। ভ্যানগঘ মিউজিয়ামে ভ্যানগঘের সান ফ্লাওয়ার ও পটেটো ইটারসের মতো বিখ্যাত চিত্রকর্ম রয়েছে। ইমপ্রেশনিস্ট, মডার্ন ও পোস্ট মডার্ন যুগের খ্যাতনামা শিল্পীদের শিল্প কর্ম রয়েছে এই জাদুঘরে। আমস্ট্রামে অবস্থিত আনা ফ্রাঙ্কের জাদুঘরটি একবারে অন্যরকম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদি কিশোরী আনা ফ্রাঙ্ক তার পরিবারের সঙ্গে আমস্টারডামের একটি বাড়ির এক গুপ্ত প্রকোষ্ঠে লুকিয়ে ছিলেন। এই বাড়িতে থাকার সময়ই আনা লেখে তার ডাইরি যা পরে ‘ডাইরি অফ আনা ফ্রাঙ্ক’ নামে বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের দুঃখের দলিল হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে জার্মান সেনারা এই বাড়ি থেকে তাদের বন্দি করে নিয়ে যায়। বন্দিশিবিরে আনার মৃত্যু হয়। আনার বাবা যুদ্ধের পর এই বাড়ির মেঝেতে ডাইরিটি খুঁজে পান। আনার সেই বাড়িটিকে মিউজিয়ামে রূপান্তরিত করা হয় পরবর্তীতে। এই মিউজিয়ামটি যুদ্ধবিরোধী একটি জাদুঘর হিসেবে পৃথিবীতে বিখ্যাত। আমরা প্রায় প্রত্যেকেই সিনেমা বা টিভির পদার্য় ইউরোপ দেখেছি। ইউরোপীয় সৌন্দর্যের আকর্ষণীয় দিকটি হলো পাথরের তৈরি বিশাল সব প্রাচীর স্থাপনা আর ছোট গলির রাস্তা। শুধু আমস্টারডাম নয়, ইউরোপের সাইক্লিং বান্ধব শহর যেমন কোপেনহেগেন, অসলোর মতো দেশগুলোর থেকে জানা যায়, সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে সাইকেল চালিয়ে যাতায়াত করলে যানজট, পরিবেশ দূষণ ও যাতায়াতের সময় কমে। এর ফলে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায় এবং শহর আরোও বসবাসযোগ্য হয়ে ওঠে।