শান্তির ছোঁয়ায় মাটির ঘর

662

নামটা বেশ মাটির ঘর। একবার শুনলে ভুলা কঠিন। এটি প্রচলিত ধারার বাইরে খাবার ঘর। এ রেস্তরাঁয় কাঠের লাকড়ি দিয়ে রান্না হয়। অধিকাংশ ক্রকারিজ মাটির। ভেতরে বসার ব্যবস্থা কাঠের গুড়ির উপর, টেবিলও মোটা কাঠের গুড়ি লম্বালম্বি চিড়ে বানান। সিলিং এ বেশ কায়দা করে ফ্যান বসান হয়েছে। রাতে বিজলী বাতির ব্যবস্থা আছে, কিন্তু দেখলে মনে হয় হারিকেন জ্বলছে। দুটো স্লাইডিং ডোর ও লম্বা লম্বি ২ পাশে ২টি গোল জানালায় স্লাইডিং পাল্লা আছে। বাকি জানালায় সাধারণ কাঠের পাল্লা। এক কথায় বেশ চমৎকার আয়োজন। এই বৈশাখে (১৪২৪) মাটির ঘর যাত্রা শুরু করেছে। খাবারের দাম সাশ্রয়ী। শুধু সমস্যা, আগে বলে না গেলে খাবারের যোগান নাও থাকতে পারে। এখানে বেশ কয়েক ধরণের চাউলের ভাত পাওয়া যায়, বাঁশফুল, গাঞ্জিয়া, নেত্রকোণার বিরুই, মানিকগঞ্জের জলাজমির বাউলা। স্থানীয় পিঠা ফুল পিঠা, পাতা পিঠা, শামুক পিঠার আয়োজনও বেশ। দইয়ের লচি নামে তাদের বিশেষ একটি পানীয় আছে (এটা কিন্তু লাচ্ছি নয়)। মাটির ঘর এ শুধু দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা। অতি দ্রুতই ৩ বেলা খাবারের ব্যবস্থা চালু হবে। এটি এখন পর্যন্ত রেস্তরা, রিসোর্ট নয়। তাই এখানে সারাদিন ঘুরার পরিকল্পনা করা কঠিন। সারাদিনের পরিকল্পনা করতে চাইলে সাথে জিন্দা পার্ক (৩৮কিলোমিটার দূরে), কালিগঞ্জ তুমুলিয়া সড়কে নাগরিক গির্জা বা টলেন্টিনির সাধু নিকোলাসের গির্জা-স্থাপিত ১৬৬৩ পাশেই পাঞ্জোরা গির্জা বা সাধু এন্টোনিস চার্চ-স্থাপিত ১৯০৬। দুটিই একই পথে ও কাছাকাছি (মাটির ঘর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে), একই পথে আরও ১২ কিলোমিটার ভিতরে কাপাসিয়া রোডের বক্তারপুরে ঈসাখাঁ’র মাজার ঘুরাঘুরির পরিকল্পনায় রাখতে পারেন। টলেন্টিনির সাধু নিকোলাসের গির্জার তত্ত¦াবধায়নে বাংলা ভাষার প্রথম অভিধান পর্তুগীজ-বাংলা অভিধান রচিত হয়েছিল। আর একদম সাদামাটা পরিকল্পনা করতে চাইলে পায়ে হেঁটে পাশেই গ্রামে ঢুকে পড়–ন। প্রচুর গাছপালা আর জলাভূমি নিয়ে খাঁটি গ্রামের গন্ধ। খাল ও দীঘিতে বিনামুল্যে নৌভ্রমণের সুযোগ পেয়ে যাওয়ার সম্ভবনা বেশি। এ এলাকায় লাল মাটির আধিক্য আছে। মাটির ঘরও অনেক। রাস্তায় বেশ উইন্ডো শপ চোখে পরবে।
যেভাবে যাবেন : নিজস্ব বাহন থাকলে মাটির ঘর যেতে ৩০ মিনিট সময় লাগে। ৩০০ ফিট থেকে কাঞ্চন ব্রিজ পর্যন্ত ২০ মিনিট, তারপর বাইপাসে উঠে টঙ্গীর দিকে ১০ মিনিটের পথ (জিন্দা পার্ক ছেড়ে যেতে হবে)। মাটির ঘর ঢাকা বাইপাসে পাঞ্জোরা রাস্তার মোড়ে। মুল রাস্তার পাশে হওয়ায় খুঁজে পেতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। উল্লেখ্য কোনো সাইনবোর্ড নেই।