মসজিদে হাজিদের সেবায় হারামের নানা উদ্যোগ

367

মসজিদে হারামে রয়েছে আল্লাহতায়ালার বরকতময় ঘর পবিত্র কাবা। এটি হচ্ছে পৃথিবীর সর্বপ্রথম ঘর, যে ঘরে দিন-রাত মানুষ ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটায়। এক মুহূর্তও থাকে না বিরতি। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় সর্বপ্রথম ঘর যা মানুষের জন্য নির্ধারিত হয়েছে, সেটিই হচ্ছে এ ঘর যা বাক্কায় (মক্কায়) অবস্থিত। এ ঘর সারা জাহানের মানুষের জন্য হেদায়েত ও বরকতময়।’ -সূরা আলে ইমরান: ৯৬
মসজিদে হারামের চত্বরে গিয়ে মিশেছে অনেকগুলো পথের মোহনা। এসব পথের ধারে রয়েছে প্রচুর দোকান-পাট, মার্কেট ও হোটেল। হজ মৌসুম উপলক্ষে এগুলো চব্বিশ ঘণ্টা খোলা থাকে। এমনকি স্বর্ণ ও জুয়েলারি দোকানগুলোও। তবে মসজিদে হারাম থেকে মাইকের আওয়াজ ভেসে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি-বাট্টা একেবারে বন্ধ। দোকানের সামনে একটা কাপড় ঝুলিয়ে তারা নামাজে চলে যায়।
এমনও দেখা গেছে, কোনো দোকানে আপনি ৩টি জিনিস কিনতে গেছেন, তার দু’টো আপনি নিয়েছেন, তৃতীয়টি দেওয়ার আগে আযান হয়ে গেছে, তাহলে আপনি আর তৃতীয়টি পাবেন না। আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত। এখানকার অধিবাসী থেকে শুরু করে কাজের সন্ধানে আসা প্রবাসীদেরও জামাতে নামাজ আদায় করতে হয়। বস্তুত নিয়মিত নামাজ আদায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল। এভাবেই রাস্তার মোড়ে মোড়ে হাজিদের জন্য খাবার বিতরণ করা হয়। নামাজের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার সঙ্গে নামাজিদের গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সমাজ অশ্লীলতা থেকে মুক্ত হয়। কোরআনে কারিমে এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে মানুষকে বিরত রাখে। -সূরা আনকাবুত: ৪৫ জামাতে নামাজ আদায় করলে পারস্পরিক হৃদ্যতা, আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায়, মানুষে মানুষে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়। এতে দুনিয়ার জীবন সুখ-শান্তিতে ভরে ওঠে। মসজিদে হারামে মুসল্লিদের কোরআন তেলাওয়াতের দৃশ্য নিয়মিত বিষয়। মসজিদে হারামের বিভিন্ন ফ্লোরে একটু পর পর কোরআন রাখার তাক রয়েছে। উপস্থিত হাজি কিংবা মুসল্লিরা দীর্ঘ সময় নিয়ে খুব আবেগ দিয়ে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করে থাকেন। অনেককে দেখা গেছে, ওইসব তাকে কোরআন কিনে রেখে আসছেন। কোরআনে কারিমের তেলাওয়াত একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অন্তরের মরিচা দূর হয়। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয় অন্তরগুলো মরিচাযুক্ত হয় যেমন লোহাতে পানি লাগলে মরিচা ধরে, কেউ বলল ইয়া রাসূলাল্লাহ! অন্তরের মরিচা দূর করার উপায় কী? নবী করিম (সা.) বললেন, অধিক মৃত্যুর স্মরণ এবং কোরআনে কারিমের তেলাওয়াত। -মিশকাত শরিফ
মসজিদে হারামে প্রতিদিন বাদ আসর ও বাদ ফজর মুসল্লিরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে উপযুক্ত শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পবিত্র কোরআন বিশুদ্ধভাবে পড়ার জন্য চেষ্টা করেন। এজন্য প্রচুর লোক নিয়োগ দেওয়া আছে।