ভূমিহীন-গৃহহীন মুক্ত হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পুনর্বাসিত ৪৮১৯ পরিবার

154

সরকারের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পাঁচ উপজেলায় চারবারে নিজেদের নামে ২ শতক করে জমির মালিকানাসহ মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছেন ৪ হাজার ৮১৯টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার। এর মধ্যে বুধবার চতুর্থ পর্যায়ে দেশের অন্যান্য উপজেলার সঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলারয় ৭৫টি, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৭৫টি এবং নাচোল উপজেলায় ৮০টিসহ মোট ২৩০টি নবনির্মিত ঘর উপকারভোগী পরিবারগুলোর অনুকূলে হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করেন। তিনি দেশের ৭টি জেলা ও ১৫৯টি উপজেলাসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের চার উপজেলাকে ক শ্রেণিভুক্ত ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করেন।
এর আগে ২০২২ সালের ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী জেলার শিবগঞ্জকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত উপজেলা ঘোষণা করেন। এর মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত হলো পুরো চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা।
বুধবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা ও চতুর্থ পর্যায়ে ৭৫টি নতুন ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে সদর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষ থেকে যুক্ত হয় উপজেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সদর আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল ওদুদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ রুহুল আমিন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আনিছুর রহমান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তসিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রওশন আলী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা খান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তোসিকুল আলম বাবুল, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন আখতার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আলাউদ্দিন।
অনুষ্ঠান থেকে উপকারভোগীদের মধ্যে ২ শতক করে জমির দলিল ও নবনির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন অতিথিবৃন্দ।
উল্লেখ্য, সদর উপজেলায় চারবারে ৭৮৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বান করা হলো।
গোমস্তাপুর প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় চতুর্থ দফায় নতুন করে আরো ৭৫টি বাড়ি হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধনের পর ঘরের বরাদ্দপত্র উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেয়া হয়।
এর আগে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি ও শিক্ষা) পাপিয়া সুলতানা। বক্তব্য দেন- সংসদ সদস্য মু. জিয়াউর রহমান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন রেজা, গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসমা খাতুন। এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস, রহনপুর পৌরসভার মেয়র মতিউর রহমান খানসহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গোমস্তাপুর উপজেলায় চারবারে ৭৩৩টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হলো।
নাচোল প্রতিনিধি জানান, জেলার নাচোল উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে চতুর্থ পর্যায়ে ৮০টি ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। এ উপলক্ষে সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষ থেকে যুক্ত হয় নাচোল উপজেলা প্রশাসন।
উপকারভোগীদের হাতে জমির দলিল ও ঘরের চাবি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে হস্তান্তর করেন জেলা প্রশাসক এ কে এম গালিভ খাঁন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাইমেনা শারমীনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেনÑ নাচোল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিথিলা দাস, পৌরসভার মেয়র আব্দুর রশিদ খান ঝালু, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মসিউর রহমান বাবু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জান্নাতুন নাঈম মুন্নী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান।
উল্লেখ্য, নাচোল উপজেলায় চার ধাপে ৯৯৬টি ভূমিহীন-গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হলো।
ভোলাহাট প্রতিনিধি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে চতুর্থ পর্যায়ে ৭৫টি ঘর হস্তান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। এ উপলক্ষে সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষ থেকে যুক্ত হয় উপজেলা প্রশাসন।
উপকারভোগীদের হাতে জমির দলিল ও ঘরের চাবি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে হস্তান্তর করেন অতিথিবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. রাব্বুল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আশিফ আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে তাবাসসুম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. গরিবুল্লাহ দবিরসহ অন্যরা।
উল্লেখ্য, চারবারে ভোলাহাট উপজেলায় ১ হাজার ১১৮টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হলো।