ভুল, ভাগ্য আর নৈপুণ্যের দোলাচলে পয়েন্ট হারাল ম্যানসিটি

দুই অর্ধের দুই ভিন্ন গল্প। প্রথম ভাগে একের পর এক ভুলে বিপর্যস্ত স্বাগতিকরা। আর বিরতির পর দৃঢ় মানসিকতায় ঘুরে দাঁড়ানো এক লড়াকু দল। সব মিলিয়ে রবিবারের নাটকীয় এক সন্ধ্যায় পূর্ণ তিন পয়েন্ট হাতছাড়া হলো ম্যানচেস্টার সিটির। আর শেষ হাসিটা ঠিকই তুলে নিল টটেনহ্যাম। নিজেদের মাঠে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় টটেনহ্যাম। মাঝমাঠে ঢিলেমি আর রক্ষণে সমন্বয়ের অভাব কাজে লাগিয়ে একের পর এক আক্রমণ শানায় সিটি। এরই ফল হিসেবে ম্যাচের প্রথম ভাগেই দুইবার জাল কাঁপে স্বাগতিকদের। প্রথম গোলটি আসে দ্রুত আক্রমণ থেকে। মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় শট, গোলরক্ষকের আর কিছু করার ছিল না। বিরতির ঠিক আগে আবারও নিজেদের ভুলে সর্বনাশ ডেকে আনে টটেনহ্যাম। বল হারানোর পর নিখুঁত পাসে ব্যবধান দ্বিগুণ করে অতিথিরা।
প্রথমার্ধ শেষে গ্যালারিতে তখন সিটির জয়গান। কিন্তু ফুটবল যে নব্বই মিনিটের খেলা, সেটা আবারও প্রমাণিত হয় বিরতির পর। দ্বিতীয়ার্ধে একেবারেই বদলে যাওয়া চেহারায় মাঠে নামে টটেনহ্যাম। আক্রমণে গতি, মাঝমাঠে চাপ আর দর্শকদের উৎসাহ; সব মিলিয়ে ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা শুরু হয়। সেই চেষ্টায় ভাগ্যের সহায়তাও মেলে। বক্সের ভেতরে ক্লিয়ার করতে গিয়ে ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বল জড়িয়ে যায় নিজের জালেই। হঠাৎ করেই ম্যাচে প্রাণ ফিরে পায় স্বাগতিকরা।
সমতায় ফেরার ক্ষুধা তখন চোখেমুখে। আর সেটার পূর্ণ রূপ দেখা যায় মাঝপথে। ডান দিক থেকে ভেসে আসা এক ক্রসে নিখুঁত দৃষ্টি আর অসাধারণ ভারসাম্যে পিছন ফিরে পা বাড়িয়ে জালে বল পাঠান সোলাঙ্কি। গোলটি শুধু স্কোরলাইন সমান করেনি, পুরো স্টেডিয়ামকে দাঁড় করিয়ে দেয়। এরপর সময় গড়িয়েছে উত্তেজনায়। দুই দলই জয়ের খোঁজে আক্রমণ চালিয়েছে। কখনো সিটির নিয়ন্ত্রিত বিল্ডআপ, কখনো টটেনহ্যামের দ্রুত পাল্টা হানা। কিন্তু শেষ বাঁশি পর্যন্ত আর কোনো গোল আসেনি। এই ড্রয়ের ফলে শিরোপা লড়াইয়ে বড় ধাক্কা খেল সিটি। জয়ের হাতছানি পেয়েও শেষ পর্যন্ত দুটি মূল্যবান পয়েন্ট ফেলে আসতে হলো তাদের। অন্যদিকে লিগে ধারাবাহিকতা না থাকলেও এমন একটি ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে পয়েন্ট আদায় টটেনহ্যামকে অন্তত আত্মবিশ্বাসের রসদ জোগাল।