বিশেষ পুরস্কার রয়েছে কোরআন তেলাওয়াতকারীর জন্য

316

আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা রমজান মাস বাদে আর কোরআন তেলাওয়াত করেন না। এমনকি কোরআন তেলাওয়াতকে গুরুত্বও দেন না। এভাবে মাসের পর মাস কোরআন তেলাওয়াত না করায় তাদের মনে কোনো ভাবান্তরও নেই। আরও অবাক করার মতো বিষয় হলো, অনেকে কোরআন তেলাওয়াত জানেনও না। এজন্য তাদের মনে কোনো দুঃখবোধ নেই, নেই কোনো অজুহাতও। অথচ এই লোকেরাই দৈনিক পত্র-পত্রিকা কিংবা এমন সব ম্যাগাজিন নিয়ম করে পড়েন, যা তাদের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনে না। এমন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়, প্রত্যাশিতও নয়। বস্তুত প্রতিটি মুসলিম নর-নারীর উচিত যথাযথভাবে গভীর মনোযোগ ও উপলব্ধি দিয়ে মহাগ্রন্থ কোরআনে কারিম সহিহ-শুদ্ধভাবে তেলাওয়াত শিখা এবং প্রয়োজনীয় অংশবিশেষ মুখস্ত করা। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘এ এক কল্যাণময় কিতাব (কোরআন), এটা আমি তোমার (নবী মুহাম্মদ সা.) ওপর অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ (শিক্ষা বা বিষয়াবলী) অনুধাবন করে এবং বোধশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিরা উপদেশ গ্রহণ করে।’ -সূরা সোয়াদ: ২৯
কোরআনে কারিমের অন্যত্র আল্লাহ আরও বলছেন, ‘যারা আল্লাহর কিতাব পাঠ করে, নামাজ কায়েম করে, আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যয় করে, তারাই আশা করতে পারে তাদের এমন ব্যবসায়ের যার ক্ষয় নেই। এজন্য যে আল্লাহ তাদের কর্মের পূর্ণ প্রতিফল দিবেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে আরও বেশি দেবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল ও গুণগ্রাহী।’ -সূরা ফাতির: ২৯-৩০ আয়াতে বর্ণিত কোরআন অধ্যয়ন বলতে তেলাওয়াত এবং আমল করা উভয়টিই বুঝানো হয়েছে। বস্তুত কোরআন তেলাওয়াত হতে হবে গভীর ধ্যান ও বুঝার চেষ্টার মধ্য দিয়ে। কোরআন মানা এবং প্রাত্যহিক জীবনে আমল করা আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতার একটি উপায়। কোরআন তেলাওয়াতকারীর জন্য বিশেষ পুরস্কারও রয়েছে। এ বিষয়ে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোরআন তেলাওয়াত করো। কারণ কিয়ামতের দিনে কোরআন তেলাওয়াতকারীর জন্য এটি সুপারিশ করবে কিংবা মধ্যস্থতা করবে।’ -সহিহ মুসলিম: ৮০৪
হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরও বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে কোরআন শিখে এবং শিক্ষা দেয়।’ -সহিহ বোখারি: ৯/৬৬ হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রা.)-এর অন্য একটি বর্ণনায়, ‘যে কোরআনের একটি হরফ তেলাওয়াত করবে সে একটি নেকি এবং এ রকম আরও দশটি নেকি পাবে। আমি বলছি না যে আলিফ লাম মীম একটি হরফ বরং আলিফ একটি হরফ, একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ।’ -সহিহ তিরমিজি: ২৯১২ হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল আসকে (রা.) বলেন, ‘মাসে একবার কোরআন খতম করো। সে বলল, আমি এর চেয়ে বেশি করতে পারি। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, সপ্তাহে একবার খতম করো।’ -সহিহ বোখারি: ৫০৫৪ নবী করিম (সা.)-এর সাহাবারা সপ্তাহে একবার পুরো কোরআন খতম করতেন। তাই প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উচিৎ, গভীর মনোযোগ ও বুঝে বুঝে কোরআন তেলাওয়াত করার চেষ্টা করা। এর মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার প্রতি মানুষের আন্তরিকতার প্রমাণ পাওয়া যায়। কোরআন থেকে ফায়দা অর্জিত হয়। তাই ফায়দা লাভের উদ্দেশে সবার উচিত বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত করা। মাসে একবার অন্তত পুরো কোরআন খতম দেওয়ার চেষ্টা করা। কেউ যদি কোনো সমস্যা ছাড়া বেশি করতে পারেন, তাহলে আরও কম সময়ে খতম দিতে পারেন। তবে তিন দিনের কম সময়ে কোরআন খতম না করা। যেহেতু হজরত মুহাম্মদ (সা.) আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আল আসের নিকট এ সময়টাকে সর্বনিন্ম বলেছেন। কারণ তিনদিনের কম সময়ে কোরআন খতম করতে চাইলে একজন মানুষকে তাড়াহুড়া করতে হয় এবং সে কোরআনের বাণী নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে পারে না এবং মনোযোগ দিতে পারে না।