বিপন্ন হচ্ছে সুন্ধি কাছিম

192

সুন্ধি কাছিম। এর ইংরেজি নাম spotted flapshell Turtle, Scientific name- Lissemys punctata. লোনাপানিতে দেখা পাওয়া যায় না। স্বাদুপানিই ওদের আবাসস্থল। সুন্ধি কাছিম দেশের সব জলাশয়ে আগে অনেক দেখা গেলেও এখন এর সংখ্যা কম। শুকনো মৌসুমে মাছের জন্য খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় সেচ করলেই দেখা মিলত একাধিক কাছিম। বর্তমানে আবাসস্থল ধ্বংস, অবৈধ শিকার ও জলাশয় দূষণের কারণে বিপন্ন হচ্ছে উপকারী এ প্রাণী। প্রাণী বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল, পাকিস্তান, ভারত, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কায়ও আছে সুন্ধি কাছিম। প্রতি বছরের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত এদের প্রজনন মৌসুম। এটি মিঠাপানির কাছিম হওয়ায় ডিম দিতে ওই সময়ে ডাঙায় ওঠে। তাদের খাদ্য তালিকায় রয়েছে জলজউদ্ভিদ ও ছোট ছোট প্রাণী। গেল সোমবার সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাউসী গ্রামের বিলে অবৈধভাবে সুন্ধি কাছিম শিকার করছিলেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সুরির দাসের ছেলে পান্ডা বাবু (৪৮) নামে এক শিকারি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে এগুলো ধরা দন্ডনীয় জানিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি অবহিত নন। ৩০-৩৫ বছর ধরে পরিবারের খাবার জোগান দিতেই কাছিম শিকার করছেন তিনি। আগে দিনে ১০-১২টা কাছিম শিকার করা গেলেও এখন দিনে ২-৩টির বেশি পাওয়া যায় না বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে কথা হলে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের গবেষণা সহযোগী শিহাব খালেদীন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বন্যপ্রাণী আইনে এটি সংরক্ষিত এবং অবৈধ শিকারে শাস্তির বিধানও আছে। প্রকৃতি থেকে প্রাণী বিপন্ন হলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বেই। তাই এদের সংরক্ষণে স্থানীয়দের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন