বিচারকের মহানুভবতায় জোড়া লাগল ভেঙে যাওয়া সংসার

44

বিচারকের মাত্র ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের প্রচেষ্টায় ভেঙে যাওয়া একটি সংসার জোড়া লেগেছে। অবুঝ দুটি সন্তান ফিরে পেয়েছে মায়ের পাশাপাশি বাবার স্নেহ ভালোবাসা। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. হুমায়ুন কবিরের প্রচেষ্টায়।
যোগাযোগ করা হলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (দ্বিতীয় আদালত) মো. হুমায়ুন কবির বলেন-বরাবরের মতো আজও বৃহস্পতিবার আমার বিচার কাজে অনেকগুলো মামলার মধ্যে একটি মামলার ডাক পড়ল। বাদী এবং আসামির দিকে তাকাতেই চোখে পড়ল দুটি অবুঝ শিশু। তাদের নিষ্পাপ চাহনি দেখে মনে হলো কিছু একটা বলতে চাচ্ছে। একটা মায়ের কোলে, আরেকটা মায়ের সাথেই কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে। বাদিকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনি কি সংসার করবেন? বলল জি স্যার। আসামিকে জিজ্ঞাসা করলাম বলল আমি সংসার করব না স্যার। আমি বললাম দেনমোহরের টাকা কি পরিশোধ হয়েছে? জিজ্ঞাসা করতেই মেয়েটা বলল স্যার আমি সংসার করতে চাই, আমার দুটি বাচ্চা আছে। আমি বললাম কেউ যদি সংসার করতে না চায় আমি কি জোর করে সংসার করাতে পারি।
এসময় উভয়পক্ষের আইনজীবী কিছু বলতে চাচ্ছিলেন। আমি বললাম এজলাস থেকে নেমে আমি উভয়পক্ষকে নিয়ে বসব, আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন। বিকালে উভয়পক্ষের আইনজীবীসহ তাদেরকে নিয়ে বসলাম। দীর্ঘ আলোচনা হলো। অনেক তিক্ততা, অবশেষে মিষ্টতায় পরিণত হলো। তারা এক সঙ্গে সংসার করতে রাজি হলো। কাজী সাহেবকে ডাকলাম এবং মৌলভী দ্বারা বিয়ে পড়ালাম। তাদেরকে আবার সংসারে ফিরিয়ে দিলাম।
বাচ্চারা ফিরে পেল তাদের বাবা-মাকে আর তাদের বাবা-মা ফিরে গেল তাদের হারানো সংসারে, ফিরে পেল দাম্পত্যজীবন। তিনি বলেন-গত ৫ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের দুটি শিশু সন্তান আছে। ছয় মাস আগে তাদের মধ্যে ডিভোর্স হয়েছিল। এঘটনায় ২০২২ সালে আদালতে মামলা হয়। আজ ছিল শুনানির দিন। এই দিনেই তাদের সংসার জোড়া লাগাতে পেরে আমি আনন্দিত, এ কাজে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা নিরবিচ্ছিন্ন সহযোগিতা করেছেন। এসময় আইনজীবী মো. মাসুদ রানা ও আব্দুল আওয়াল উপস্থিত ছিলেন।
জোড়ালাগা দম্পতির বাড়ি জেলা শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নে।