ফেইসবুক পোস্ট নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দাঙ্গা

648

ফেইসবুকের একটি পোস্ট নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগণাজুড়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার খবর দিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।কলকাতা শহরের নিকটবর্তী বিভিন্ন এলাকায় দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার পর গত মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গে আধাসামরিক বাহিনীর ৪০০ সেনাকে পাঠিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার, জানিয়েছে এনডিটিভি।বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।শুক্রবার বাদুরিয়া শহরের ১৭ বছর বয়সী এক ছাত্র নবী মোহাম্মদকে (সাঃ) নিয়ে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট দিলে সহিংসতা শুরু হয়। ওই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এর প্রতিক্রিয়ায় গত মঙ্গলবার সহিংস এক দল জনতা বেশ কয়েকটি রাস্তা অবরোধ করে, অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর হামলা চালায় ও দোকান ভাংচুর করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।আগের দিন সোমবার বিক্ষুব্ধ জনতা উত্তর চব্বিশ পরগণা থেকে কলকাতাগামী প্রধান সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে।কলকাতা থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে বাদুরিয়াতেই প্রথম সহিংসতা শুরু হয়ে পরে তা জেলার অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এক টুইট বার্তায় কলকাতা পুলিশ জনগণকে গুজবে কান না দিতে ও গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।পরিস্থিত নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের গভর্নর কেশরি নাথ ত্রিপাঠি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি; এরপর কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিংকে পরিস্থিতি অবহিত করেন রাজ্য গভর্নর।
এই ঘটনার পর মমতা গভর্নর ত্রিপাঠির আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। “আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে তিনি কিভাবে আমার সঙ্গে কথা বলেন? তিনি এমনভাবে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, যেন তিনি বিজেপিপন্থী নেতা। আমি অপদস্থ ও বিপন্ন হয়েছি, পদত্যাগ করার কথাও ভেবেছি…আমি অপমানিত হয়েছি,” অনুযোগ করে বলেন মমতা।পরে এক বিবৃতিতে ত্রিপাঠির দপ্তর জানায়, গভর্নরের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর আলোচনায় এমন কিছু হয়নি যাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘অপমানিত, বিপন্ন বা অপদস্থ বোধ’ করতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রীর ‘ভাষা ও আচরণে’ গভর্নর বিস্মিত হয়েছেন বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।উত্তর চব্বিশ পরগণার পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুখতার আব্বাসিও। গতকাল বুধবার তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজ্য সরকারের সুরক্ষায় পশ্চিমবঙ্গের ‘সমাজবিরোধী উপাদান’ সেখানে সমান্তরাল সরকার পরিচালনা করছে।