পাল্লেকেলের ফাঁদেই আটকাল স্বাগতিকরা, প্রস্তুতির সিরিজে নিখুঁত ইংল্যান্ড

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হয়েও প্রস্তুতির মঞ্চে চরম হতাশার ছবি দেখল শ্রীলঙ্কা। নিজেদের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে একটিও ম্যাচ জিততে না পেরে হোয়াইটওয়াশের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো দাসুন শানাকার দলকে। মঙ্গলবার পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত শেষ টি-টোয়েন্টিতে কম রানের ম্যাচে নিজেদের তৈরি স্পিন-নির্ভর উইকেটেই আটকে গেল স্বাগতিকরা। ১২৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ১১৬ রানেই গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ফলে সিরিজ শেষ হয় ৩-০ ব্যবধানে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে। এই সিরিজের তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হয়েছে পাল্লেকেলেতে। তবে প্রতিটি ম্যাচে উইকেটের আচরণ ছিল ভিন্ন। প্রথম ম্যাচে বৃষ্টির কারণে ওভার কমলেও স্পিন খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি। দ্বিতীয় ম্যাচ ছিল তুলনামূলক ব্যাটিং-বান্ধব। আর শেষ ম্যাচে স্পিনারদের আধিপত্যই ঠিক করে দেয় ফলাফল। প্রথমে লঙ্কান বোলাররা ইংল্যান্ডকে চাপে ফেললেও পরে সেই একই ফাঁদে নিজেরাই পড়েন স্বাগতিক ব্যাটাররা।
এর আগে দুই দল তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল। সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতেও পরের দুই ম্যাচে হেরে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোয়ায় শ্রীলঙ্কা। টি-টোয়েন্টিতে এসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। এই নিয়ে ইংল্যান্ডের কাছে টানা ১১টি টি-টোয়েন্টিতে হারল শ্রীলঙ্কা। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এটি তাদের ইংলিশদের বিপক্ষে দ্বিতীয় হোয়াইটওয়াশ। ঘরের মাঠে প্রথম। এর আগে ২০২১ সালে ইংল্যান্ডে একই পরিণতি হয়েছিল। শেষ ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করতে নামে ইংল্যান্ড। শুরু থেকেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা। মাত্র ৬০ রান তুলতেই ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলে হ্যারি ব্রুকের দল। সেই ধাক্কা সামলে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন স্যাম কারান। ৪৮ বলে ৫৮ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ছয়টি চার ও একটি ছক্কা। এছাড়া জস বাটলার করেন ২৫ রান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২৮। শ্রীলঙ্কার হয়ে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন দুষ্মন্ত চামিরা। মাত্র ২৪ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম পাঁচ উইকেটের কীর্তি গড়েন তিনি।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি শ্রীলঙ্কার। ইনিংসের তৃতীয় বলেই শূন্যরানে ফিরে যান ওপেনার কামিল মিশারা। পাথুম নিশাঙ্কা আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে কিছুটা আশা জাগালেও ২৩ রানেই থেমে যান। পাওয়ারপ্লেতে ৪৬ রান তুলে লঙ্কানরা ম্যাচে থাকলেও মাঝের ওভারে দ্রুত উইকেট হারানোয় সেই সম্ভাবনা ফিকে হয়ে যায়। ৬২ রানের মধ্যে পভন রত্ননায়েক ও কুশল মেন্ডিস ফিরে গেলে চাপ আরও বাড়ে। কামিন্দু মেন্ডিস ও জানিথ লিয়ানাগে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি যথেষ্ট হয়নি। শেষ ছয় উইকেট পড়ে যায় মাত্র ২৬ রানের ব্যবধানে। ইংল্যান্ডের বোলিংয়ে বড় ভূমিকা রাখেন স্পিনাররা। জ্যাকব বেথেল নেন চারটি উইকেট। আর উইল জ্যাকস শিকার করেন তিনটি। ম্যাচ ও সিরিজসেরার পুরস্কার উঠেছে স্যাম কারানের হাতেই। ব্যাটে-বলে তার অবদানই এই সিরিজে ইংল্যান্ডের নিখুঁত সাফল্যের প্রতিচ্ছবি। বিশ্বকাপের আগে যেখানে প্রস্তুতির আত্মবিশ্বাস গড়ার কথা ছিল, সেখানে ঘরের মাঠে এমন পরাজয় শ্রীলঙ্কার জন্য বড় সতর্কবার্তা হয়েই রইল।