নাচোলে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উদযাপিত

510

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৬২তম সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার দিনব্যাপী বরেন্দ্র অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিস্বত্তার মানুষেরা   শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় নাচোল আদিবাসী একাডেমীর উদ্যোগে বেলা ১১টায় উপজেলা চত্বর থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ নাজমুল হকসহ আদিবাসী নেতৃবৃন্দ ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাঁওতাল, ওরাঁও, মুন্ডাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিস্বত্তার নারী-পুরুষ ও শিশুরা অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গিয়ে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
নাচোল আদিবাসী একাডেমীর সভাপতি যতিন হেমব্রমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস, বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, ইউএনও মুহাম্মদ নাজমুল হক, উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি হিংগু মুরমু। অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন, ওরাঁওদের নাচোল ও নিয়ামতপুর দিঘরী পরিষদের রাজা বাবুলাল টপপো, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন দিলু, আদিবাসী নেতা দিপক কিসকু, বিশ্বনাথ মাহাতো, মন্টু খালকো, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মনোরঞ্জন সরকার প্রমূখ।
বক্তারা বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার জন্য ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে বাঙালিরা রক্ত দিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় জাতিগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে ক্ষুদ্র জাতিস্বত্তার মানুষেরাও রক্ত দিয়েছে। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশে ক্ষুদ্র জাতিস্বত্তার মানুষেরা নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি, সম্ভ্রম ও সম্পদ নিয়ে সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকতে পারবে না, এটা হতে পারে না। যে শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে ১৮৫৫ সালে সাঁওতাল বিদ্রোহ হয়েছিল, সেই শোষণ-নিপীড়ন আজও শেষ হয়নি। আজো আদিবাসী নারীরা ধর্ষিত হচ্ছে। তাঁদের জমিজমা, সমাধিস্থল গ্রাস করছে ভূমিদস্যুরা।
অনুষ্ঠানে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা, মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার অধিকার, সমতলের আদিবাসীদের জন্য বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ আট দফা দাবি উত্থাপিত হয়। শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিকেলে নাচোল উপজেলা মাঠে সিধু-কানু স্মৃতি ফুটবল প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে সদর উপজেলার টংপাড়ায় গ্রামবাসীর উদ্যোগে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উদযাপিত হয়। শোভাযাত্রা শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামের নেত্রী কুটিলা রাজোয়ারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আদিবাসী নেতা এভারিষ্ট হেমব্রম, বিধান সিং, কর্ণেলিউস মুরমু, মদন হাসদা, রতিলাল মুন্ডা, টুনু পাহান, অনিতা রাজোয়ার, হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক বলরাম বসাক, জাতীয় যুব হিন্দু মহাজোটের প্রধান সমন্বয়ক সন্তোষ মাহাতো, স্থানীয় নেতা উত্তম বর্মণ, আওয়ামী লীগ নেতা শরিফ আহমেদ প্রমূখ।
অন্যদিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাটে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার আঘোর বালাতৈরে সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উদযাপন কমিটি, সাপাহারে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।