দিল্লিতে কয়েক দিন ধরে পানির সংকটে লাখো মানুষ

ভারতের রাজধানী দিল্লির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শর্মা এনক্লেভ এলাকার বাসিন্দা রবীন্দর কুমার প্রতিদিনই কাদার ভেতর দিয়ে হেঁটে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু ঘরে ফিরে তিনি পান করার মতো এক ফোঁটা পরিষ্কার পানিও পান না। তিনি বলেন, তিন দিনে একবার পানি আসে। তাও মাত্র এক ঘণ্টার মতো পরিষ্কার থাকে। গোসল করাও কষ্টকর। অনেক সময় পানি কালো হয়ে যায়। চার-পাঁচ দিনে একবার করে গোসল করি। রবীন্দর কুমারের মতো দিল্লির লাখো মানুষ এই সংকটে ভুগছেন। যমুনা নদীতে অ্যামোনিয়ার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গত সপ্তাহে শহরের নয়টি বড় পানি পরিশোধন কেন্দ্রের ছয়টি বন্ধ করে দিতে হয়। শিল্পকারখানার বর্জ্য থেকে আসা অ্যামোনিয়ায় যমুনার পানি এতটাই দূষিত হয়ে পড়েছে যে শোধনাগারগুলো তা পরিশোধন করতে পারছে না। এই নদীকে পবিত্র বলে মানেন কোটি কোটি মানুষ। প্রায় দুই কোটি মানুষের শহর দিল্লিতে গত বৃহস্পতিবার দিল্লি জল বোর্ড জানায়, ৪৩টি এলাকায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাস করেন। সিএনএন মঙ্গলবার ওই ৪৩ এলাকার বাসিন্দা সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জানান, তারা কয়েক দিন ধরে একেবারেই পানি পাননি। কিছু এলাকায় একদিনের জন্য পানি বন্ধ ছিল, আবার কোথাও কম পরিমাণে পানি এসেছে। পানি বোর্ড জানায়, ২৪ জানুয়ারি থেকে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে।
তবে অনেক বাসিন্দা জানান, এখনও নিয়মিত পানি পাচ্ছেন না।শুক্রবার সিএনএন শর্মা এনক্লেভে গিয়ে দেখে, বাসিন্দারা আগের দিন অল্প সময়ের জন্য আসা পানি জমিয়ে ব্যবহার করছেন। সেই পানি ছিল হলুদ রঙের এবং পচা ডিমের মতো গন্ধ ছিল। তারা জানান, তিন দিন পরপর ট্যাংকারে পানি আসে, তাই রোববারের আগে নতুন পানি পাওয়ার আশা নেই। এলাকার বাসিন্দা শশী বালা বলেন, সবার স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যাচ্ছে। চারপাশ শুধু নোংরা। যমুনার দূষণ ও পানিসংকট নিয়ে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর ও হরিয়ানা সরকারকে সিএনএন যোগাযোগ করলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। যমুনা নদী হিমালয়ের হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রায় ১ হাজার ৩৭৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে। ১৭শ শতকে এই নদীর তীর ঘেঁষেই দিল্লি গড়ে ওঠে। বর্তমানে দিল্লির পানির প্রায় ৪০ শতাংশ আসে যমুনা থেকে। কিন্তু বহু বছর ধরে এই নদীতে বিষাক্ত রাসায়নিক ও অপরিশোধিত পয়ঃবর্জ্য ফেলা হচ্ছে। নদীর মাত্র ২ শতাংশ অংশ দিল্লির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হলেও মোট দূষণের প্রায় ৭৬ শতাংশ আসে এই শহর থেকেই সরকারি একটি কমিটির তথ্য অনুযায়ী। অনেক সময় পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা শূন্যে নেমে যায়। এতে নদীটি কার্যত একটি নোংরা নর্দমায় পরিণত হয়, যেখানে জলজ প্রাণী টিকে থাকতে পারে না। এই দূষণের সবচেয়ে স্পষ্ট চিহ্ন হলো নদীর ওপর ভেসে থাকা সাদা বিষাক্ত ফেনা। এটি মূলত পয়ঃবর্জ্য ও শিল্পবর্জ্যের স্তর। গত রোববার পরিবেশকর্মীরা নদীর তীরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালান। কয়েক ঘণ্টা ধরে তারা নদী থেকে ফেলা কাপড়, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং ডুবে থাকা ধর্মীয় মূর্তি তুলে আনেন।