চীনের বিপক্ষে হার দিয়েই অভিষেক হলো বাংলার বাঘিনীদের

এএফসি নারী এশিয়ান কাপের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চীন। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপে খেলতে গেছে বাংলাদেশ। প্রস্তুতি, শারীরিক সক্ষমতায় চীনের চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা।
এশিয়ান কাপে হার দিয়েই অভিষেক হলো বাংলার বাঘিনীদের, কিন্তু হারলেও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে লড়াই করে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ঋতুপর্ণা-মারিয়ারা।
মঙ্গলবার ওয়েস্টার্ন সিডনিতে এএফসি নারী এশিয়ান কাপে গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ম্যাচের দুটি গোলই হয় প্রথমার্ধের শেষের দিকে।
৮৬ মিনিটে হালিমাকে তুলে মিডফিল্ডার আনিকা রানিয়াকে মাঠে নামান কোচ পিটার বাটলার। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক ঘটল বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত সুইডেন প্রবাসী আনিকার।
চীনের র্যাংকিং ১৭, বাংলাদেশের ১১২ কাগজে-কলমে এটি ছিল স্পষ্ট অসম লড়াই। তবে মাঠে সেই ব্যবধান পুরোপুরি প্রতিফলিত হতে দেয়নি বাংলাদেশ নারী দল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট জুড়ে তারা খেলেছে ইতিবাচক ফুটবল।
এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীন নারী জাতীয় ফুটবল দল ফিজিক্যাল ও টেকনিক্যাল দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও লড়াইয়ে পিছিয়ে ছিল না বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দল।
চীনকে প্রথম গোলের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ৪৪ মিনিট পর্যন্ত। প্রথমার্ধের শেষ দুই মিনিটে দুই গোল করে তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয়। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ বলের দখলে আগের চেয়ে উন্নতি করে এবং রক্ষণাত্মক খোলস ভেঙে আক্রমণের ধারাও বাড়ায়।
বিরতির পর বাংলাদেশ তিন পরিবর্তন আনে উমহেলা, শিউলি ও নবীরনের জায়গায় নামেন তহুরা, হালিমা ও স্বপ্না। ৮৫ মিনিটে জাতীয় দলে অভিষেক হয় সুইডিশ প্রবাসী আনিকা রহমানের। চীনও দ্বিতীয়ার্ধে তিন পরিবর্তন করলেও আর গোলের ব্যবধান বাড়াতে পারেনি।
অস্ট্রেলিয়ায় চলমান এএফসি নারী এশিয়ান কাপে রয়েছে ভিএআর প্রযুক্তি। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের একটি আক্রমণে পেনাল্টির সম্ভাবনা ভিএআরে পরীক্ষা করা হলেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত যায়নি বাংলাদেশের পক্ষে।
ম্যাচের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্তটি আসে ১৪তম মিনিটে। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পান ঋতুপর্ণা চাকমা। ডিফেন্ডারকে পেছনে ফেলে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া তার বাঁ পায়ের শট প্রায় জালেই জড়িয়ে যাচ্ছিল। চীনের গোলরক্ষক চেন চেন পেছনে লাফিয়ে অসাধারণ সেভ না করলে সেটি হতে পারত টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল।
২২ মিনিটে চীন প্রথমবার বল জালে পাঠালেও ভিএআরে সেটি বাতিল হয়। অবশেষে ৪৪ মিনিটে ওয়াং শুয়াং দূরপাল্লার শটে গোল করে এগিয়ে নেন দলকে। এক মিনিট পর ঝাং রুইয়ের শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডারদের পায়ে লেগে জালে জড়ালে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।