চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম সন্দেহে ৪২% পজিটিভ, রিপোর্ট পেতে দেরি: স্বাস্থ্য বিভাগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলায় সন্দেহভাজন হাম রোগীদের নমুনা পরীক্ষায় প্রায় ৪২ শতাংশ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম সাহাবুদ্দীন জানান, এখন পর্যন্ত জেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পাঠানো ১০১টি নমুনার মধ্যে ৪২টির রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এসব পরীক্ষা ঢাকায় অবস্থিত সরকারি ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস ল্যাবরেটরিতে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সারা দেশ থেকে নমুনা আসায় ল্যাবে চাপ বেড়েছে, ফলে নতুন নমুনার রিপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে।

অন্যদিকে, জেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতাল থেকে পাঠানো নমুনাগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পজিটিভ পাওয়া গেছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মশিউর রহমান বলেন, যাদের নমুনা পাঠানো হয়েছে তাদের প্রায় অর্ধেকের শরীরে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। আরও অনেক নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলেও সেগুলোর সব রিপোর্ট এখনো হাতে আসেনি।

তিনি আরও জানান, আগে হাম আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু ছিল, বিশেষ করে ৯ মাসের কম বয়সীদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যেত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যেও সংক্রমণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। চলমান টিকাদান কর্মসূচির পূর্ণ সুফল পেতে অন্তত ২৮ দিন সময় লাগবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

চিকিৎসকদের মতে, টিকাদানে ঘাটতির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকা নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণাও সংক্রমণ বৃদ্ধির একটি কারণ। এতে অনেক মানুষ টিকা নিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন।

এদিকে, সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, নতুন করে ২৯ জন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতে জেলায় বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০ জনে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫৮৬ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও ডায়রিয়ার প্রকোপ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং বহির্বিভাগে আরও ১৮ জন শনাক্ত হয়েছেন। বর্তমানে জেলা হাসপাতালে ৬৩ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এ পরিস্থিতিতে জেলার সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ইপিআই (সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি) সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতোমধ্যে ৪২ শতাংশের বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, এ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে।