চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুলছাত্র তাজমুল হত্যা মামলায় দু’জনের যাবজ্জীবন

107

চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র তাজিমুল হক তাজমুল হত্যা মামলায় দু’জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড সেইসাথে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলার পৃথক আরেকটি ধারায় দন্ডিত ওই দু’জনকে ৩ বছর করে কারাদন্ড সেইসাথে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও এক মাস কারাদন্ডের আদেশও দেয়া হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামীকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত। আদেশে উল্লেখ করা হয়, পৃথক দুই ধারায় প্রদত্ত সাজা একত্রে কার্যকর হবে। দন্ডিতরা হল- নাচোল উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে রুবেল হোসেন ওরফে রুবেল হক ওরফে আবির ও একই গ্রামের নিয়ামুল হকের ছেলে হযরত আলী। আজ দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ রবিউল ইসলাম আসামী রুবেলের উপস্থিতিতে ও আসামী হযরতের অনুপস্থিতিতে (পলাতক) দন্ডাদেশ ঘোষণা করেন। নিহত তাজমুল গোমস্তাপুর উপজেলার কালুপুর গ্রামের মোস্তাক আলীর ছেলে ও মুন্সি হযরত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর ছাত্র ছিল।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায় এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (অতিরিক্ত পিপি) রবিউল ইসলাম রবু বলেন, ২০২০ সালের ১৯ নভেম্বর দুপুর থেকে রাতের মধ্যে কোন এক সময় অটোরিক্সা চুরির জন্য নাচোলের নেজামপুর ইউনিয়নের চিনিশল্লা গ্রামের একটি বাড়িতে স্কুলের অবসরে অটোরিক্সা চালক তাজমুলকে তার অটোরিক্সাসহ নিয়ে যায় দন্ডিতরা। ওই বাড়িতে তারা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযাযী তাজমুলকে শ^াসরোধে ও ইট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে মরদেহ ওই বাড়ির একটি ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখে। এঘটনায় পরদিন তাজমুলের নানা নাচোলের শ্রীরামপুর গ্রামের আব্দুল ওহাব নাচোল থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে মামলা করেন। ২০২১ সালের ৩১ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) ও নাচোল থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম রসুল ৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলার চার্জশীট দাখিল করেন। ২২ জনের সাক্ষ্য, প্রমাণ ও শুনানীর পর আদালত মঙ্গলবার রুবেল ও হযরতকে দোষি সাব্যস্ত করে সাজা প্রদান করেন। আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ্যাড. এমদাদুল হক লুটু।