খালগুলোর পুনর্খনন শেষ হলে মানুষ উপকৃত হবে

ডাক, টেলি যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) রেহান আসিফ আসাদ বলেছেন, এই নবাব খালসহ এই জেলার (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) খাল-বিল, জলাশয়গুলো খনন ও পুনর্খনন শেষ হলে মানুষ উপকৃত হবে। ভূউপরিস্থ পানি দিয়ে এই জেলার ফসল উৎপাদন করা যাবে, অন্যান্য কাজেও এই পানি ব্যবহার করা যাবে, জলাবদ্ধতা নিরসন হবে। উপদেষ্টা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গৃহীত কর্মসূচির কথা তুলে ধরে বলেন— এরই মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে, আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষি কার্ড করা হবে, আন্তঃনগর বনলতা ট্রেনে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ বিএনপির নির্বাচনী ঘোষণা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সবকিছুই করা হবে।
সোমবার বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের রুহুল বাঁধ এলাকায় খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষি বিষয়সহ তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানান। প্রেক্ষিতে উপদেষ্টা আসাদ বলেন— এই এলাকার উন্নয়নের জন্য যা যা করা দরকার আমি তাই করব। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক হারুনুর রশীদ তার বক্তব্যে জানান, দীর্ঘ চার বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ তার বক্তব্যে বলেন, এই খালটির খনন কাজ শেষ হলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার জলাবদ্ধতার নিরসন হবে।
প্রকল্পের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব।
এসময় উপস্থিত ছিলেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহী উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মুখলেসুর রহমান, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী, রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিএমডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী আল মামুনুর রশীদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার তৌফিকুল ইসলামসহ বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
প্রকল্পের সার সংক্ষেপে বলা হয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নয়াগোলা, কল্যাণপুর, ফকল্যান্ড মোড়, বিজিবি ক্যাম্প এলাকা, পুলিশ লাইন্স, বিসিক এলাকা, আতাহার, মহাডাঙ্গা, বিদিরপুর, আলীনগর, গণকা, শিয়ালা কলোনির একাংশের ঘরবাড়ি, দালানকোঠা, সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, রাস্তা-ঘাটসহ নিকটবর্তী এলাকায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার মধ্য দিয়ে অতিক্রমকারী খালগুলোর মধ্যে নবাব খাল ও নয়াগোলা খাল দ্বারা সৃষ্ট প্রবাহপথ দীর্ঘতম। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ১০.৫০ কিলোমিটার। নবাব খালটির প্রবাহপথের মোট দৈর্ঘ্য ৫.০০ কিলোমিটার এবং নয়াগোলা খালটির প্রবাহপথের মোট দৈর্ঘ্য ৫.৫০ কিলোমিটার। নবাব খালটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার উত্তর ভবানীপুর মৌজার চাঁপাই-আমনুরা রাস্তা এবং নয়াগোলা খাল কল্যাণপুর মৌজার নয়াগোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ হতে উৎপন্ন হয়ে মহাডাঙ্গা, বিদিরপুর, আলীনগর ও কালুপুর মৌজা দিয়ে রুহুল বাঁধ নামক স্থানে অতিক্রম করে শিয়ালা মৌজায় মহাডাঙ্গা খালে পতিত হয়েছে।
নয়াগোলা খাল এবং নবাব খালের দুটি প্রবাহপথ এবং রেল বরোপিট বরাবর মোট ১২.৫০ কিলোমিটার খনন কাজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নয়াগোলা এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন। খননকৃত প্রবাহপথের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন স্থানে মোট ৮টি কালভার্ট তৈরি করার মাধমে প্রবাহপথের উভয়পাশের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন। খাল খননের মাধ্যমে এই এলাকায় আবাদী জমি ও ফল বাগান বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা। এবং শুষ্ক মৌসুমে খালের পানি সেচকাজে ব্যবহারের মাধ্যমে শস্য উৎপাদন বৃদ্ধি। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮৬৪.৭০ লাখ টাকা।