ক্যান্সারের ঝুঁকিতে মোবাইল ফোন

511
girl talking on cell phone clipart

তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের সাথে সাথে বিশ্বব্যাপী বিপুল পরিমাণে বেড়ে গেছে মোবাইল ফোনের ব্যবহার। জাতিসংঘের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সংস্থা আইটিইউ এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা পেরিয়ে গেছে ৫০০ কোটি। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মোবাইল ফোন থেকে ক্যান্সার হাবর ঝুঁকি রয়েছে।
বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্রযুক্তি পণ্যের নাম মোবাইল ফোন। পৃথিবীর সব দেশেই সব শ্রেণী পেশার মানুষের হাতে পৌঁছে গেছে এই মোবাইল ফোনের সেবা। মোবাইল ফোন ছাড়া আসলে আমরা আর একটি দিনও অতিবাহিত করার কথা চিন্তাও করতে পারি না। তবে মোবাইল ফোনের ব্যবহারের সাথে নানারকম স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি নিয়েও গবেষণা চলে আসছে অনেক দিন থেকেই। সব ধরনের মোবাইল থেকেই তড়িৎ চোম্বকীয় বিকিরণ (ইলেকট্রো-ম্যাগটিক রেডিয়েশন) ঘটে যা মানব শরীরের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। সম্প্রতি জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউ এইচ ও) এক গবেষণা প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে, মোবাইল ফোনের এই বিকিরণ দীর্ঘ মেয়াদে ক্যান্সারের মতো রোগ তৈরি করতে পারে। শুধু প্রযুক্তি বিশ্ব-ই নয়, গোটা বিশ্বেই এই গবেষণা নিয়ে চলছে তোলপাড়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদন
জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউ এইচ ও) এর অধীনে রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। যে সমস্ত রোগ মানবজাতির জন্য অনেক বেশি হুমকি’র তাদের নিয়ে গবেষণার জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা গবেষণা সংস্থা। অন্যতম মরণব্যাধি ক্যান্সার নিয়ে গবেষণায় ঠিক এমন একটি প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি)। এই সংস্থাটি ক্যান্সারের বিভিন্ন কারণ নিয়ে গবেষণা করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। তাদের গবেষণায় প্রাপ্ত নানা তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে তারা পৃথিবীর ১৪টি দেশের ৩১ জন বিশেষজ্ঞ নিয়ে বসেন। সব ধরনের তথ্য এবং প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে তারা জানান, মোবাইল ফোনের তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণ থেকে ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা রয়েছে। তারা মোবাইল ফোনকে ‘গ্রুপ ২বি‘তে রেখেছেন। এর অর্থ হচ্ছে সম্ভবত মোবাইল ফোন মানব শরীরে ক্যান্সারের একটি কারণ।
প্রতিবেদনের এই সিদ্ধান্তের অর্থ হচ্ছে মানব শরীরে ক্যান্সারের সাথে মোবাইল ফোনের তড়িৎ চৌম্বকীয় বিকিরণের কিছু সম্পর্ক রয়েছে। তবে এই সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণ এতো পর্যাপ্ত এবং শক্তিশালী নয় যে, সরাসরি মোবাইল ফোনকেই ক্যান্সারের কারণ হিসেবে অভিহিত করা যায়। নির্দিষ্ট করে বললে, আইএআরসি’র গবেষকরা দুইটি নির্দিষ্ট ধরনের মস্তিষ্কের টিউমারের সাথে মোবাইল ফোনের সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। এই দুইটি টিউমার হচ্ছে গ্লিওমা এবং অ্যাকোস্টিক নিউরোমা। এই দুই ধরনের ব্রেইন টিউমার পরবর্তীতে ক্যান্সারে রূপান্তরিত হয়। আর এই দুই ধরনের ব্রেইন টিউমার ঘটাতে ভূমিকা রাখতে পারে মেবাইল ফোনের বিকিরণ। আইএআরসি’র এই গবেষক দলের অন্যতম প্রধান ড. জোনাথান সামেট এই ফলাফল সম্পর্কে বলেন, ‘এই গবেষণা থেকে যে সিদ্ধানেত উপনীত হওয়া যায় তা হচ্ছে, মোবাইল ফোন থেকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। নূন্যতম মাত্রায় এই ঝুঁকি হলেও একে অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই। আর তাই মোবাইল ফোনের সাথে ক্যান্সারের সম্পর্ক ও ঝুঁকির বিষয়টি নিয়ে আরও দীর্ঘদিনের গবেষণা চালিয়ে যেতে হবে। খুব নিবিড়ভাবে এই সম্পর্কটি আমাদের পর্যবেক্ষন করতে হবে’।
স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে মোবাইল ফোন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আইএআরসি কর্তৃক ক্যান্সার জনক বা ক্যান্সারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিভিন্ন খাদ্য বা পণ্যের তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। মোবাইল ফোনের তড়িৎ চৌম্বকীয় গবেষণার পর মোবাইল ফোনকেও এই তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করে খাদ্য বা পণ্য তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। তালিকার প্রথম শ্রেণীতে রয়েছে ধুমাপন, অ্যাসবেস্টস, অ্যালকোহলের মতো সব দ্রব্যাদি যেগুলো সরাসরি ক্যান্সার তৈরিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এই তালিকার ‘গ্রুপ ২বি‘তে স্থান দেয়া হয়েছে মোবাইল ফোনকে। এই গ্রুপের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই গ্রুপে অন্তর্ভূক্ত দ্রবাদি মানুষের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। এসব পণ্যের ক্যান্সার তৈরিতে প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণ পর্যাপ্ত নয়। এর অর্থ হচ্ছে, এই ঝুঁকির পেছনে কিছু প্রমাণ রয়েছে, তবে তা সরাসরি ক্যান্সারের জন্য দায়ী করার মতো পর্যাপ্ত শক্তিশালী নয়।