কোরবানির পশু উদ্বৃত্ত থাকবে ২২ লাখের বেশি
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর কোনও ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্যমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। তিনি বলেন, “চাহিদার তুলনায় বরং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। রবিবার (৩ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে মোট ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। সে হিসাবে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু অতিরিক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “এর মধ্যে গরু ও মহিষ রয়েছে প্রায় ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি, ছাগল ও ভেড়া ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি এবং উট-দুম্বাসহ অন্যান্য পশুর সংখ্যা ৫ হাজার ৬৫৫টি। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “দেশীয় খামারিরা এখন আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় বেশি সক্ষম। সরকারের নীতিগত সহায়তা, প্রণোদনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় বাংলাদেশ এখন পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ অবস্থানে পৌঁছেছে। ফলে এই বছর কোরবানির জন্য বিদেশ থেকে পশু আমদানির প্রয়োজন হবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “গত ঈদুল আজহাতেও দেশে পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি ছিল। তখন প্রায় ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু কোরবানি দেওয়া হলেও প্রায় ৩৩ লাখের বেশি পশু অবিক্রিত থেকে যায়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কোরবানির পশু পরিবহনে কোনও ধরনের প্রতিবন্ধকতা না থাকে সেজন্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে পশু আনা-নেওয়া নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসময় উপস্থিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “খামারিদের সুরক্ষা এবং ভোক্তাদের জন্য সহনীয় দামে পশু নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশীয় উৎপাদন দিয়েই কোরবানির পুরো চাহিদা পূরণ সম্ভব হচ্ছে। এতে একদিকে স্থানীয় খামারিরা লাভবান হচ্ছেন, অপরদিকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে।