কৃষিতে আজ বিপ্লব বঙ্গবন্ধুরই যুগান্তকারী পদক্ষেপে

448

<সাজ্জাদ হোসেন সবুজ>


স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেয়া যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলশ্রুতিতেই আজ বাংলাদেশে কৃষি বিপ্লব সাধিত হয়েছে। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার সময় দেশের ৮৫ শতাংশ মানুষ এবং মোট জাতীয় আয়ের অর্ধেকেরও বেশি কৃষি নির্ভর ছিল। বঙ্গবন্ধু এটি ভালভাবে অনুধাবন করেছিলেন যে কৃষির উন্নয়ন ছাড়া দেশের অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী হবে না। এজন্য তিনি ‘কৃষক বাঁচাও দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে সবুজ বিপ্লবের ডাক দেন। তাঁর সরকার সবুজ বিপ্লবের এই ডাক ও স্লোগানকে কেবল স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করেনি। বরং স্বাধীনতার পর সহায়-সম্বলহীন ২২ লাখ কৃষক পরিবারকে পুনর্বাসন করেছে। তাদের পুনর্বাসনে স্বল্পমূল্যে এবং অনেককে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ দেয়া হয়। ১৯৭২ সালে বিদ্যমান সমবায় সমিতি ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর সরকার ১৯৭২ সালে সমন্বিত পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দ্বিস্তর বিশিষ্ট সমবায় ব্যবস্থা চালু করেন। বঙ্গবন্ধুর সরকার ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ এবং পরিবার প্রতি সর্বোচ্চ ১শ’ বিঘা জমির সিলিং নির্ধারণ করেন। পাকিস্তান আমলে দায়েরকৃত ১০ লাখ কৃষককে সার্টিফিকেট মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। সুদসহ তাদের বকেয়া ঋণও মওকুফ করা হয়। ১৯৭২ সালের শেষে স্বল্পমূল্যে কৃষকদের ৪০ হাজার অগভীর, ২ হাজার ৯শ’ গভীর এবং ৩ হাজার শ্যালো টিউবওয়েল দেয়া হয়। এরফলে ১৯৬৮-৬৯ সালের তুলনায় ১৯৭৪-৭৫ সালে সেচের জমি এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ লাখ একরে দাঁড়ায়। সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি কেবল ১৯৭২ সালে ১৭ হাজার ৬১৬ টন উচ্চ ফলনশীল ধান ও গমের বীজ বিতরণ করা হয়। এছাড়া বিশ্ব বাজারের তুলনায় কম মূল্যে সার সরবরাহ করা হয়। এসব পদক্ষেপের ফলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার ৭০ শতাংশ, কিটনাশক ৪ শতাংশ এবং উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার ২৫ শতাংশ বেড়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর সরকার কৃষকদের মাঝে দেড় লাখ গবাদিপশু ও ৩০ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণ করে। বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ধান, পাট, তামাক ও আখসহ প্রধান প্রধান কৃষিপণ্যের সর্বনি বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়। বঙ্গবন্ধুর সরকার কৃষি গবেষণায় গুরুত্ব প্রদানের পাশাপাশি কৃষি সংশ্লিষ্ট উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে ৮ মাসে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প পুর্ন্যােদমে চালুর ব্যবস্থা করেন। তাঁর সরকার সরকারিভাবে খাদ্য মজুতের জন্য ১৯৭২ সালের মধ্যে ১শ’ গোডাউন নির্মাণ করে। কৃষির উন্নয়নে কৃষক, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের উৎসাহ প্রদানে জাতীয় পর্যায়ে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকের’ প্রবর্তন করা হয়।