করোনায় প্রাণ হারালেন প্রখ্যাত সেতার বাদক

67

করোনাভাইরাসে প্রাণ হারালেন প্রখ্যাত সেতার বাদক পণ্ডিত দেবব্রত চৌধুরী। তার বয়স হয়েছিল ৮৫।

দেবু চৌধুরী নামেই সকলের কাছে পরিচিত ছিলেন তিনি। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হলে দেবু চৌধুরীকে দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। আজ ভোররাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রখ্যাত এই সেতার বাদক।

বাবার মৃত্যুর খবর জানিয়ে দেবু চৌধুরীর ছেলে প্রতীক চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমার বাবা, সেতারের কিংবদন্তি দেবু চৌধুরী আর বেঁচে নেই। কোভিড নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। তার ডিমেনশিয়ার সমস্যাও ছিল। আজ মধ্যরাতে তাকে আইসিএউ-তে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। এরপর তার হার্ট অ্যাটাক হয় এবং তিনি আর ফেরেননি। ভারতীয় সংগীতজগৎ ও সেতারের দুনিয়ায় অপূরণীয় ক্ষতি। এই শূন্যতা পূরণ হবার নয়।’

পণ্ডিত দেবু চৌধুরী ১৯৩৫ সালে বাংলাদেশের ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি চার বছর বয়স থেকেই সেতার বাজানো শুরু করেন। ১৯৫৩ সালে, আঠারো বছর বয়সে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে তার প্রথম সেতার বাজানো সম্প্রচার হয়। তিনি ৮টি নতুন রাগ সৃষ্টি করেছেন। সেগুলো হলো— বিশ্বেশ্বরী, পলাশ-সারং, অনুরঞ্জনী, আশিকী ললিত, স্বানন্দেশ্বরী, কল্যাণী বিলাওয়াল, শিবমঞ্জরী এবং প্রভাতী মঞ্জরী (তার স্ত্রী মঞ্জুর স্মৃতিতে)। তিনি ভারতীয় সংগীতের ওপর তিনটি বই লিখেছেন, এগুলোর নাম— ‘সেতার অ্যান্ড ইটস টেকনিকস’, ‘মিউজিক অব ইন্ডিয়া’ এবং ‘অন ইন্ডিয়ান মিউজিক’। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দিনের ২৪ ঘণ্টায় ২৪টি সিডি রেকর্ড করেছেন।

তিনি ওস্তাদ মুস্তাক আলী খানের শিষ্য। তাকে যুদ্ধোত্তর যুগের একজন শীর্ষস্থানীয় সেতার বাদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত অনুষদের প্রাক্তন ডিন এবং প্রধান।