ওয়াশিংটন পোস্টের ৩৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা

আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মালিকানাধীন ঐতিহ্যবাহী মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট বড় ধরনের রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ৮০০ সাংবাদিকের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশকে ছাঁটাই করেছে মালিকপক্ষ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) অনেক কর্মীকে বাড়িতে থাকার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স সংবাদমাধ্যমটির মুখপাত্র জানান, ছাঁটাই কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটির অন্তত তিন ভাগের এক ভাগ কর্মী চাকরি হারাবেন। নিউজরুমের ‘শত শত’ কর্মী চাকরি হারাবেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন-বাল্টিমোর গিল্ড ইউনিয়ন। পোস্টের কর্মীরা ওই ইউনিয়নের সদস্য। দুইজন অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, কোম্পানি প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে। এতে ব্যবসায়িক বিভাগ এবং প্রায় ৮০০ সাংবাদিকের মধ্যে ৩০০ জনেরও বেশি বাদ পড়েছে।
অনলাইনে একটি লাভজনক সংবাদপত্র গড়ে তোলার এবং চালানোর পথ খুঁজে পাননি বলেই এই ছাঁটাই করেছেন বেজোস। তার মালিকানার প্রথম আট বছরে পত্রিকাটি সম্প্রসারিত হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি সংস্থা বেশ হোঁচট খেয়েছে। নতুন এই ছাঁটাইয়ের কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে গণমাধ্যমটির কয়েকটি বিট ও কার্যক্রম। সংকুচিত হবে বেশ কিছু সেক্টরও। ওয়াশিংটন পোস্টের নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে বলেন, ‘পুরোনো আমলে স্থানীয় পত্রিকাগুলো যেমন একচেটিয়া ব্যবসা করতো, সেরকম একটি ব্যবসায়িক কাঠামো আমরা দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করে এসেছি। আমাদেরকে এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন পথ খুঁজে পেতে হবে এবং আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে হবে।
এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, তারা ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে কয়েকটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সে অনুযায়ী যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা দাবি করে, ব্যবসায়িক কারণেই এসব সিদ্ধান্ত। নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, দ্য পোস্টের ক্রীড়া বিভাগ বন্ধ করা হবে, যদিও কিছু রিপোর্টার থাকবেন এবং ফিচার বিভাগে চলে এসে ক্রীড়ার সংস্কৃতি কভার করবেন। মেট্রো বিভাগ সংকুচিত হবে, এবং বই বিভাগ বন্ধ হবে, তদুপরি দৈনিক নিউজ পডকাস্ট বন্ধ হবে।
ম্যাট মারে জানান, আন্তর্জাতিক কভারেজও কমে যাবে, তবে সাংবাদিকরা প্রায় একটি ডজন লোকেশনে থাকবেন। মধ্যপ্রাচ্য, ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রতিবেদক এবং সম্পাদক ছাঁটাই করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে মারে এই ছাঁটাইয়ের দায়িত্ব নেন। তিনি জানান, এটি তার এবং তার টিমের পরিকল্পনার অংশ। ২০১৩ সালে পত্রিকাটি কিনে নেওয়ার সময় বেজোস কথা দিয়েছিলেন তিনি এর দৈনন্দিন কার্যক্রমে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবেন না। ২০২৩ সালে পত্রিকাটির লোকসানের পরিমাণ ছিল ১০০ মিলিয়ন ডলার। বেজোস ২০২৩ সালের শেষদিকে উইল লুইসকে প্রকাশক হিসেবে নিয়োগ দেন দ্য পোস্টকে লাভজনক করার জন্য। কারণ পত্রিকা দর্শক ও সাবস্ক্রিপশন কমে যাচ্ছিল। লুইস বিভিন্ন পরিবর্তন পরীক্ষা করেছেন, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মন্তব্য, পডকাস্ট এবং নিউজ অ্যাগ্রিগেশন চালু করার ক্ষেত্রে। এরপরই আসে এই ছাঁটাইয়ের ঘোষণা।