উত্তম আচার ব্যবহারও নামাজ রোজার ন্যায় নেক আমল

339

রাস্তা-ঘাটে চলাফেরার সময় অনেক কিছুই আমাদের নজরে আসে। কিছু বিষয় নজরে আটকে যায়, আর কিছু বিষয়কে স্বাভাবিক বলেই ধরে নেই। তেমনি একটি বিষয় হলো, মানুষের সঙ্গে ব্যবহার ও আচরণ।
অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আমরা প্রায়ই দেখি যে, গরীব মানুষকে যেন মানুষ হিসেবেই গণ্য করা হয় না। কাজের মানুষের সঙ্গে, দিনমজুর, ফেরিওয়ালা ও রিকশাওয়ালার সঙ্গে অনেক মানুষ অমানুষের মতো আচরণ করে। প্রায়ই দেখা যায় রিকশা ভাড়া নিয়ে অনেক ভদ্রলোক বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। এমনকি অল্পবয়সী ছেলে-মেয়েরাও পিতার বয়সী রিকশাওয়ালাকে তুই-তোকারি পর্যন্ত করে থাকে।
এখন প্রশ্ন হলো, এই আচরণগুলো কী অনুসরণীয়? না এগুলো স্মার্টনেস? না, কখনও এমন আচরণ অনুসরণীয় না, এগুলো স্মার্টনেসও না। এগুলো নিতান্তই মন্দ আচরণ। বড় কেউ করছে বলেই তা ভালো নয়, বরং যিনি এ আচরণ করলেন তিনি মন্দ, তার ব্যবহারটা অসুন্দর।
নবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা ‘ইম্মাআ’ হয়ো না। অর্থাৎ এমন হয়ো না যে, লোকে ভালো ব্যবহার করলে তোমরাও ভালো ব্যবহার করবে আর লোকে মন্দ ব্যবহার করলে তোমরাও (তাদের অনুসরণে) মন্দ ব্যবহার করবে। বরং তোমরা নিজেদেরকে অভ্যস্ত কর যে, লোকে যখন ভালো ব্যবহার করে তখনও তোমরা ভালো ব্যবহার করবে আর তারা যখন মন্দ ব্যবহার করে তখনও তোমরা জুলুম থেকে বিরত থাকবে।’ -জামে তিরমিজি
ইসলামে সুন্দর আচরণের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত পরিষ্কার। আল্লাহতায়ালা কোরআনের মাধ্যমে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সুন্দর আচরণ শিক্ষা দিয়েছেন। নবী সুন্দর আচরণের মাধ্যমেই পথহারা, দিশেহারা মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে এনেছেন। তাদেরও শিক্ষা দিয়েছেন উত্তম আচরণ।
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) উত্তম চরিত্র ও আচার-ব্যবহারকে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। কিন্তু মুশকিল হলো, আমরা নামাজ-রোজার ন্যায় উত্তম চরিত্র ও আচার-ব্যবহারকেও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল হিসেবে তেমন গুরুত্ব দিই না।
আচার-ব্যবহার সে তো একটু শালীনতা মাত্র। কাজেই সময় সময় আমরা একটু নফল ইবাদতের চেষ্টা চালালেও উত্তম আচার-ব্যবহার অর্জনের চেষ্টায় তেমন তৎপর নই। দুর্ব্যবহার ও অশালীন আচরণ দূর করে ভদ্রতা-ন¤্রতা অর্জনের চেষ্ট করি না। ভালো কথা, ভালো ব্যবহার, সুন্দর আচরণের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির সার্বিক পরিচয় ফুটে উঠে, তার উন্নত ব্যক্তিত্বের প্রমাণ মেলে। যারা সবসময় মানুষের সঙ্গে ভালো কথা বলে, সুন্দর আচরণ করে তাদের সবাই অত্যন্ত পছন্দ করে, ভালোবাসে, সম্মান ও শ্রদ্ধা করে। আল্লাহতায়ালাও তাদের অত্যন্ত পছন্দ করেন।
প্রচুর সংখ্যক হাদিসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তম নৈতিক চরিত্রের ফজিলত মর্যাদা এবং আরও অনেক হাদিসে উন্নত নৈতিক চরিত্র অর্জন ও খারাপ চরিত্র বর্জনের জন্য উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন। ঈমানের উচ্চ আসনে আসীন হওয়ার জন্য উন্নত নৈতিক চরিত্র ও আচার ব্যবহারের ন্যায় আর কোনো আমল নেই।
হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামায় সুন্দর আচরণের চেয়ে অধিক ভারী আমল আর কিছুই হবে না। যে ব্যক্তি অশ্লীল ও কটু কথা বলে বা অশোভন আচরণ করে, তাকে আল্লাহতায়ালা ঘৃণা করেন। আর যার ব্যবহার সুন্দর, সে তার ব্যবহারের কারণে নফল রোজা ও তাহাজ্জুদের সওয়াব লাভ করবে।’ -সুনানে তিরমিজি
হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, ‘যদি কেউ বিন¤্রতা ও ন¤্র আচরণ লাভ করে, তাহলে সে দুনিয়া ও আখেরাতের পাওনা সব কল্যাণই লাভ করল। আর রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং সুন্দর আচরণ বাড়িঘর ও জনপদে বরকত দেয় এবং আয়ু বৃদ্ধি করে।’ -আহমদ