ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে চলতি সপ্তাহে চার ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মিজানের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। মঙ্গলবার মেহেদি ফারিদ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি মোসাদের কাছে ইরানের স্পর্শকাতর জাতীয় তথ্য পাচার করেছেন। এর আগে, সপ্তাহের শুরুতেই একই অভিযোগে আমির আলি মিরজাফারি, হামিদ ওয়ালিদি এবং মোহাম্মদ মাসুম শাহী নামে আরও তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। ইরানে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমনেই ইরান এই পথ বেছে নেয়। বিশেষ করে চলতি বছর রাজনৈতিক বন্দি এবং গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের ওপরও এই কঠোর সাজা প্রয়োগ করা হয়েছে।

নরওয়ে-ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) এবং প্যারিস-ভিত্তিক টুগেদার অ্যাগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনাল্টি (ইপিসিএম)-এর একটি যৌথ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালে ইরান তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। ওই বছর অন্তত ১,৬৩৯ জনের সাজা কার্যকর করা হয়েছে, যা ১৯৮৯ সালের পর সর্বোচ্চ। তবে বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতার অভাব থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইপিসিএম-এর নির্বাহী পরিচালক রাফায়েল শেনুইল-হাজান জানান, ইরানে মৃত্যুদণ্ডকে মূলত রাজনৈতিক দমন-পীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।