ইসরাইলি হামলায় গাজায় একই পরিবারের ১৩ শিশুর মৃত্যু

33

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৯৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭৬ হাজার ৯৮০ জন। দক্ষিণ গাজার রাফাহ অঞ্চলে ইসরাইলি বিমান হামলায় এক পরিবারের ১৩ জন শিশুসহ দুই জন নারী নিহত হয়েছেন। পর পর দুইটি বিমান হামলায় তারা নিহত হয়েছেন বলে রোববার জানিয়েছেন গাজা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এদিকে রাফাহ অঞ্চলে স্থল অভিযানের পরিকল্পনার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দখলদার ইসরাইলের সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটের ওপর নিষোধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। নেতজা ইয়েহুদা নামের এই ইউনিটটি ফিলিস্তিনের দখলকৃত পশ্চিমতীরে মোতায়েন রয়েছে। পশ্চিমতীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহু অভিযোগ রয়েছে নেতজা ইয়েহুদার বিরুদ্ধে। এদিকে দুই দফা ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর অবশেষে গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতাল ছেড়েছিল ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। হাসপাতালটির সব সরঞ্জাম ও সুবিধা ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হাসপাতাল প্রাঙ্গণে গণকবর থেকে অন্তত ৫০ মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে দেশটির জরুরি বিভাগ। হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়া চিকিৎসাকর্মীরা ইসরাইলি বাহিনীর বর্বরতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, তারা হাসপাতালের ভেতরে মানুষজনকে জড়ো করে হাত পিছমোড়া করে ও চোখও বেঁধে ফেলে এবং কোয়াডকপ্টার বা স্নাইপার দিয়ে তাদের গুলি করে হত্যা করে। তাদের সবাইকে একটি কবরে সমাধিস্থ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনের সিভিল ডিফেন্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, রোববার খান ইউনিস প্রদেশে আমাদের টিম বিভিন্ন বয়সের ৫০ শহীদের মরদেহ উদ্ধার করেছে। দখলদার বাহিনী এদের মৃতদেহ জড়ো করে নাসের হাসপাতালে সম্মিলিতভাবে সমাধিস্থ করেছে। নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হওয়ায় আমাদের দল অবশিষ্ট শহীদদের সন্ধান ও পুনরুদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।