ইরানে হামলার শঙ্কা: আতঙ্কে সৌদি, আমিরাত ও কাতার
ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ওপর তেহরানের কঠোর দমনপীড়ন এবং ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একটি অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলো।
তেহরান ইতিমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যেসব প্রতিবেশী দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে তবে সেই ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। এমন হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের অতিসত্ত্বর ইরান ত্যাগের পরামর্শ দিয়েছে।প্রয়োজনে তুরস্ক বা আর্মেনিয়া হয়ে স্থলপথে সীমান্ত পার হওয়ার নির্দেশনা জারি করেছে।
এদিকে ইরানের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েল সরাসরি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানালেও সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিক্ষোভকারীদের সাহসের প্রশংসা করে ইরানে একটি নতুন গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তবে দেশটির সামরিক বাহিনী যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত রেখেছে। উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত সংঘাত হয়েছিল। ইরানের পরমাণু ও সামরিক স্থাপনায় নজিরবিহীন হামলা চালানো হয়। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে সব পক্ষ।
আরব দেশগুলোর মধ্যে বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে চরম সাবধানতা বজায় রাখছে। চীনের মধ্যস্থতায় ২০২৩ সালে ইরানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোড়া লাগানোর পর রিয়াদ এখন আর নতুন কোনো দ্বন্দ্বে জড়াতে আগ্রহী নয়। বিশেষ করে সৌদি আরব সরাসরি তেহরানকে আশ্বস্ত করেছে, ইরানের ওপর হামলার জন্য তারা তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না।
সৌদি বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে যদি সম্পূর্ণ অরাজকতা তৈরি হয় বা বর্তমান সরকারের পতন ঘটে, তবে সেই বিশৃঙ্খলা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে। এটা রিয়াদের অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনার জন্য বড় হুমকি।
একই সুর শোনা যাচ্ছে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কণ্ঠেও। কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ের সাথেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে, তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যে কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা এই অঞ্চলের জন্য বিপর্যয়কর ফলাফল বয়ে আনবে।
গত জুনে কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার স্মৃতি এখনো দগদগে। অন্যদিকে ইরাকও এই সংকটের বাইরে নয়। যুদ্ধের আঁচ যেন তাদের সীমানায় না পৌঁছায় সে জন্য বাগদাদ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরাক বর্তমানে কোনো পক্ষ নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই এবং সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে দেশটি চরম বিপাকে পড়বে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সবাই চাইছে বড় কোনো সংঘাত এড়িয়ে শান্তি বজায় রাখতে।