আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দীন ইসলাম

661

ইসলাম আরবি শব্দ। এর অভিধানিক অর্থ অনুগত হওয়া, আনুগত্য করা, আত্মসমর্পন করা ও মুসলমান হওয়া। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর অনুগত হওয়া, আনুগত্য করা ও তার নিকট পূর্ণ আত্মসমর্পন করা; বিনা দ্বিধায় তার আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তার দেয়া বিধান অনুসারে জীবনযাপন করার নাম ইসলাম। (শারহু আকাইদিন নাসাফিয়্যাহ, পৃষ্ঠা-৯১) আর যিনি ইসলামের বিধান অনুসারে জীবনযাপন করেন, তিনি হলেন মুসলিম বা মুসলমান।
ইসলাম আল্লাহ্ তাআলার মনোনীত একমাত্র ‘দীন’- একটি পূর্ণাঙ্গ ও পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত এ ব্যবস্থার আলোকে একজনকে মুসলিম জীবনযাপন করতে হয়। ইসলামে রয়েছে সুষ্ঠু সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থব্যবস্থা। রয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা। মানব চরিত্রের উৎকর্ষ সাধন, ন্যায়নীতি ও সুবিচারভিত্তিক শান্তি-শৃঙ্খলাপূর্ণ গতিশীল সুন্দর সামজ গঠন ও সংরক্ষণে ইসলামের কোনো বিকল্প নেই, হতে পারে না। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ইসলামই আল্লাহর একমাত্র মনোনীত দীন। (সূরা আলে ইমরান, ৩ : ১৯)
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো কবুল করা হবে না। (সূরা আলে ইমরান, ৩ : ৮৫)
হাদিস শরীফে ইসলামের একটি সংজ্ঞা ও পরিচিত সুন্দরভাবে বিবৃত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ইসলাম হলো, আল্লাহ্ ব্যতীত কোনো ইলাহা নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল বলে সাক্ষ্য দেয়া, সালাত আদায় করা, যাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা পালন করা এবং যাতায়াতের সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহ্ শরীফ হজ আদায় করা। (বুখারী ও মুসলিম)
বস্তুত ইসলামই সকল নবী-রাসূলের অভিন্ন ধর্ম। হযরত আদম (আ.) থেকে শুরু করে শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত আগমনকারী সকল নবী-রাসূলগণই মানুষকে ইসলামের দিকেই আহবান করেছেন এবং এরই ভিত্তিতে নিজ নিজ উম্মতকে গড়ে তুলেছেন। ইসলাম ধর্মের মর্ম হলো, আল্লাহর পরিপূর্ণ আনুগত্য করা। আর প্রত্যেক পয়গম্বরই যেহেতু নিজ আল্লাহর পূর্ণ অনুগত থাকার সাথে সাথে উম্মতকেও এর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন, তাই সকল নবীর দীনই ইসলাম। (দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পৃষ্ঠা-৩৪)
হযরত ইব্রাহীম (আ.)-ই সর্বপ্রথম নিজ ধর্মের নাম ইসলাম এবং তার উম্মতকে ‘উম্মাতে’ মুসলিম বলে অভিহিত করেছেন। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, হে আমার প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে মুসলিম তথা তোমার অনুগত বানাও এবং আমাদের বংশধর হতেও এক উম্মতে মুসলিমা অর্থাৎ তোমার এক অনুগত উম্মত বানাও। (সূরা বাকারা, ২ : ১২৮)
হযরত ইব্রাহীম (আ.) তার সন্তানদের প্রতি অসিয়ত করে বলেন, তোমরা মুসলিম না হওয়া অবস্থায় মৃত্যুবরণ করো না। (সূরা বাকারা, ১৩২)
মোটকথা, নবী-রাসূলগণের প্রচারিত ধর্মে মৌলিক কোনো পার্থক্য ছিল না। কিন্তু প্রত্যেকের শরিয়ত ছিল ভিন্ন ভিন্ন। এই মর্মে আল কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য শরিয়ত ও স্পষ্টপথ নির্ধারণ করেছি। (সূরা মায়িদা, ৫ : ৪৮)
নবী-রাসূলগণের আগমনের ধারাবাহিকতার পরিসমাপ্তি ঘটেছে হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মাধ্যমে। তিনি আখেরী নবী। তারপর আর কোনো নবী-রসূল আসবে না। তার আগমনে পূর্ববর্তী সমস্ত শরিয়ত রহিত হয়ে গেছে। তাই এখন ইসলাম বলতে হযরত মুহাম্মদ (সা.) আনীত শরিয়তকে এবং মুসলিম বলতে উম্মতে মুহাম্মদীকেই বুঝাবে। এই হিসাবে ইসলামের সংজ্ঞা নিন্মরূপ- আল্লাহ্ তায়ালার পক্ষ থেকে হযরত মুহাম্মদ (স.) যে আদর্শ ও বিধি-বিধান নিয়ে এসেছেন, যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত তা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করাকে ইসলাম বলা হয়। (কাওয়াইদুল ফিকহ, মুফতী সাইয়েদ মুহাম্মাদ আমীমুল ইহসান (রহ.), পৃষ্ঠা-১১৭) প্রকৃতপক্ষে রাসূলুল্লাহ্ (সা.)- এর নির্দেশনা অনুযায়ী নিজেকে আল্লাহর নিকট সপে দেওয়া এবং পরিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করার নামই হলো ইসলাম। যে আত্মসমর্পণ করে তাকে বলা হয় মুসলিম।