আমদানি বাড়ছে, চালের দাম কমছে

420

মোকামে ও পাইকারি বাজারের পর খুচরা বাজারেও চালের দাম কমতে শুরু করেছে। প্রতি কেজি মোটা চালে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে পাইকারি বাজারে দাম কমার প্রভাব পড়েনি সরু চালে। এদিকে শুল্ক কমানোর পর চাল আমদানি বেড়েছে। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে ব্যাপকহারে চাল আমদানি হচ্ছে। আমদানি বেড়ে যাওয়ায় গত শুক্রবার ছুটির দিনেও খোলা ছিলো দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই স্থলবন্দর।
রবিবার রাজধানীর খুচরাবাজারে প্রতি কেজি মোটা ইরি/স্বর্না ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা, পাইজাম/লতা ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, মিনিকেট ৫৯ থেকে ৬২ টাকা ও নাজিরশাইল ৬৭ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়। যা এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে চালভেদে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত কম।
কাওরানবাজারের বি. বাড়িয়া রাইচ এজেন্সির নিজামউদ্দিন গতকাল বলেন, সরকারের সাথে ব্যবসায়ীদের বৈঠকের পর থেকেই চালের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে ভারতের এলসির মোটা চালের দাম যেভাবে কমেছে অন্যান্য চালের দাম সেভাবে কমেনি। তবে আগামি এক সপ্তাহের মধ্যে চালের দাম আরো কমবে বলে তিনি জানান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বোরো মৌসুমে হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যায় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রের হিসেবে, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কমপক্ষে ২০ লাখ টন বোরো কম হয়েছে। এর প্রভাব পড়ে চালের বাজারে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে চালের দাম। মোটা চাল ইরি/স্বর্ণার দাম ৫০ টাকার উপরে ও সরু চাল নাজিরশাইলের দাম ৭০ টাকায় উঠে। টনক নড়ে সরকারের। বিদেশ থেকে চাল আমদানি বাড়াতে শুল্ক ২৮ টাকা থেকে কমিয়ে ২ শতাংশে নিয়ে আসে। এ ছাড়া বাকিতে ঋণপত্র খোলার সুযোগ দেওয়া হয়। এর প্রভাব পড়েছে চাল আমদানিতে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে চাল আমদানিতে ব্যাংকগুলোতে ১৪ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে। গত অর্থবছরের একই মাসে এলসি খোলা হয় মাত্র ১১ লাখ ডলারের। এক বছরের ব্যবধানে এলসি খোলায় ব্যয় বেড়েছে ১৩৩ গুণ। জুলাইয়ে চাল আমদানিতে ৭ কোটি ১২ ডলারের এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল মাত্র ১৩ লাখ ডলার। চাল আমদানির এলসি নিষ্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে ৫৫ শতাংশ।
সরকারিভাবেও বেড়েছে চাল আমদানি। ইতোমধ্যে ৯ লাখ টন চাল আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে সরকার। এরমধ্যে দুই লাখ টন চাল সরকারের হাতে এসে পৌঁছেছে। জাহাজ থেকে খালাসের অপেক্ষায় আছে আরও দেড় লাখ টন চাল। বাকি সাড়ে ৫ লাখ টন চাল আগামি ১২ নভেম্বরের মধ্যে দেশে পৌঁছাবে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
ভারত এলসি মূল্য বাড়ালেও আসছে চাল
হিলি স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ভারত এলসি মূল্য বাড়ালেও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রচুর পরিমাণে চাল বাংলাদেশে আসছে। বন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক অসিত কুমার সান্যাল জানান, প্রতিদিন বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ১’শ থেকে ১৫০টি চাল ভর্তি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। সে হিসাবে এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে দৈনিক ৩ থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল আসছে।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা জানান, বাংলাদেশ চালের আমদানি শুল্ক কমানোর সাথে ভারত পাল্লা দিয়ে বাড়িয়েছে চালের এলসি মূল্য। ভারত প্রথম অবস্থায় প্রতিটন চালের এলসি মূল্য ৩৮০ ডলার নির্ধারণ করলেও তা বাড়িয়ে বর্তমানে ৫৫০ ডলার নির্ধারণ করেছে।
হিলি ল্যান্ড কাস্টমস এর সহকারী কমিশনার মশিয়ার রহমান মন্ডল জানান, শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হিলি স্থলবন্দর বন্ধ থাকার কথা থাকলেও চাল আমদানির স্বার্থে এই স্থলবন্দর খোলা রাখা হয়।
বাংলাহিলি কাস্টমস সি এ- এফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান লিটন জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের আশুরা উপলক্ষে আগামি ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় এক সপ্তাহ হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তাই যাতে চাল আমদানির উপর কোন চাপ না পড়ে, সেজন্য শুক্রবারও হিলি স্থলবন্দরের কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দু’দেশের ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, পূজার আগেই রপ্তানির কাজ শেষ করবেন বলে জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন ভারতের হিলি এক্সপোর্টার এ- ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শ্রী শানজিদ মুজুমদার।