আবু মরে গেলেও আমরা তাকে নিতে যাবো না : মা

1066

আমার কাছে আবু যখন ছিল তখন সে খারাপ ছিল না। শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমার ছেলেকে খারাপ পথে নিয়ে গেছে। তাইতো পুলিশ এসেছে তাদের মারতে। আমার ভিটামাটি ছাড়ার পরই আবুর এই দশা হচ্ছে।  সে মরে গেলেও আমরা তাকে নিতে যাবো না। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের শিবনগর এলাকার জঙ্গি আস্তানায় আবু আলী নামে যে জঙ্গি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তার মা ফুলশানা বেগম এই তথ্য জানান। শিবনগরের ওই আস্তানা থেকে আধা কিলোমিটার দূরে ত্রিমোহনীতে আবুর পৈত্রিক বাড়িতে তার মায়ের সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকালে কথা হয় । তখন তিনি আক্ষেপ করে নিজের ছেলে সম্পর্কে এ মন্তব্য করেন। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা জানান, বুধবার শিবনগরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানের খবর জানার পর থেকে বিছানা ছেড়ে উঠেননি ফুলশানা বেগম। না খেয়ে বিছানাতেই শুয়ে রয়েছেন। আবু তার প্রথম সন্তান। শিবনগরের ওই আস্তানায় আবুর সঙ্গে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে বলেও জানান পরিবারের সদস্যরা। ফুলশানা অভিযোগ করেন, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের প্ররোচনায় আবু খারাপ পথে গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে জঙ্গি আস্তানাস্বজনরা জানান, আবুর দুই মেয়ে নুরী (৭) ও সাজিদা (৬)। পুলিশ ঘিরে রাখার আগের দিন সন্ধ্যায় দাদা-দাদির বাড়ি থেকে দুই মেয়েকে ওই  ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যায় আবু। ফুলশানা বেগমের পাশে বসে থাকা আবুর চাচি চামেলি বেগম বলেন, আবু ও তার স্ত্রী জঙ্গি হয়েছে। খারাপ পথে গেছে, তাদের শাস্তি হোক। কিন্তু নুরী ও সাজিদা তো আর জঙ্গি না। তাহলে কেন তারাও  মা-বাবার পাপের ভাগীদার হবে? নিষ্পাপ শিশু দুটিতো আর দোষ করেনি। আপনারা একটু খোঁজ নিয়ে দেন না – শিশু দুটি বেঁচে আছে না মরে গেছে? তিনি আরও বলেন, বুধবার আবুর মা আর আমি কতবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বলেছি আবুকে। কিন্তু সে কোনও সাড়া-শব্দ করেনি। তারা মরে গেছে না বেঁচে আছেম তাও বলতে পারি না। তবে প্রশাসনের লোকজন আমাদের দিয়ে বলিয়েছে যে, তারা যেন বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। তারা যদি বেরিয়ে আসতো তাহলে তাদের শাস্তি হতো। তবে মেয়ে দুটি বেঁচে যেত। কিন্তু যেভাবে গুলি হচ্ছে তাতে করে বেঁচে থাকার কথা না। পরিবারের সদস্যরা জানান, আট-নয় বছর আগে বিয়ে করেছে আবু। সে একাই কনে দেখে। কনেপক্ষই তাদের বিয়ে দেয়। সেখানে আবুদের বাড়ির কেউ যায়নি। এই বিবাদের কারণেই দুপক্ষের মধ্যে কোনও যোগাযোগ ছিল না। আবুর মায়ের দাবি, তার সন্তান তাদের কাছে থাকলে  তাকে সুপথে নিয়ে আসা যেত। আবুর আরেক প্রতিবেশীর স্ত্রী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, আবুরা তিন ভাই-বোন। আবু সবার বড়। বোন তার স্বামীর সঙ্গে ভোলাহাটে থাকেন। আর ছোট ভাই সবুর রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন এবং স্ত্রীকে নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গেই থাকেন। তবে কয়েকদিন ধরে আবুর বাবা ও তার ছোট ভাই বাড়ির বাইরে আছেন।