আপনার সঙ্গী কি নার্সিসিস্ট?

প্রেমের সম্পর্ক কিংবা সংসার সামলানো-সব ক্ষেত্রেই একক প্রচেষ্টার চেয়ে দুজনের সম্মিলিত উদ্বেগ দরকার হয়। অর্থাৎ সঙ্গীর সহযোগিতা-সহমর্মিতা-সমর্থন প্রয়োজন হয়। একসঙ্গে পথ চলতে চলতে যদি দেখেন কেবল আপনি দিয়ে যাচ্ছেন, আর অপরপক্ষ কেবল গ্রহণ করছে তাহলে সচেতন হোন। সঙ্গী আত্মতুষ্টিতে ভোগেন কিনা, আপনাকে কথায় কথায় ছোট করে কিনা তাও সচেতনভাবে লক্ষ্য করুন। এমনটা হতে থাকলে বুঝতে হবে আপনার সঙ্গী নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারের শিকার।

অতিরঞ্জিত আত্মতুষ্টি : নার্সিসিস্ট মানুষ নিজের সম্পর্কে অবাস্তব ও উঁচু ধারণা পোষণ করেন। নিজের কাজ, রূপ-গুণে অতিমুগ্ধ থাকেন। নিজেদের যোগ্যতা বা সাফল্যকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে জাহির করেন এবং নিজেকে অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করেন।

অন্যকে ছোট করা : এ ডিজঅর্ডারে আক্রান্তরা অন্যকে ছোট করে, অপমান করে আনন্দ পান। তারা তাদের সঙ্গী, আশপাশের মানুষের আত্মবিশ্বাস গুঁড়িয়ে দিতে চেষ্টা চালিয়ে যান। অন্যের ব্যর্থতায়, কষ্টে আনন্দ পান। নার্সিসিস্টরা হিংসুক প্রকৃতির হয়ে থাকেন।

সহমর্মিতার অভাব : নার্সিসিস্টদের আচরণের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সহমর্মিতার অভাব। আপনার দুঃখ, কষ্ট বা কঠিন সময়ে সহানুভূতি তো দেখাবেই না, বরং আপনাকে আগের চেয়ে বেশি দুঃখী করে তুলতে পারে। তারা ভালো শ্রোতা হন না, বরং নিজের কথা বলতেই বেশি পছন্দ করেন।

প্রশংসার তীব্র আকাঙ্ক্ষা : তারা যে কাজই করুক না কেন, তার জন্য প্রশংসা প্রত্যাশা করেন। পাশাপাশি বিশেষ মনোযোগ পাওয়ার আশা করেন। প্রশংসা না পেলে তারা রাগান্বিত হন।

সমালোচনা সহ্য করতে না পারা : আপনার সঙ্গী যদি সমালচনা সহ্য করতে না পারে তাহলে অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলো মিলিয়ে নিন। কেননা নার্সিসিস্টরা নেতিবাচক মতামত গ্রহণ করতে পারে না। বরং চরমভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান, রেগে যান বা আক্রমণাত্মক হন।

মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা : নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিজঅর্ডারে আক্রান্তরা নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগ প্রত্যাশা করেন। সকলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকতে চান। তারা যদি প্রশংসা, নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগ না পান তাহলে ক্ষেপে যান। ক্রোধ প্রকাশ করেন। আবার কখনো ক্রোধ সরাসরি প্রকাশ না করে মনে মনে ফুঁসতে থাকেন।