আক্ষেপটা ঘোচাতে চান মুশফিক

497

টেস্ট ক্যারিয়ারের বয়স পেরিয়ে গেছে এক যুগ। খেলতে পেরেছেন মোটে ৫৪ টেস্ট। এর পরও সব দলের সঙ্গে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা হয়েছে, বাকি কেবল অস্ট্রেলিয়া। অবশেষে এবার হচ্ছে সুযোগ। মুশফিকুর রহিম তাই রোমাঞ্চিত। এতদিন খেলতে না পারার আক্ষেপটা বাংলাদেশ অধিনায়ক ঘোচাতে চান জয়ে রাঙিয়ে।
বেতন-ভাতা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে গত কিছুদিনের টানাপোড়েনে উদ্বিগ্ন ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও। এমনিতেই অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলার সুযোগ হয় না খুব একটা। যেটাও এসেছে, সেই সুযোগও না ভেস্তে যায়! অস্ট্রেলিয়ার সংকটের অবসান তাই বাংলাদেশ ক্রিকেটেও বয়ে এনেছে স্বস্তি। মুশফিকদের দোলাচ্ছে রোমাঞ্চের দোলায়।
চট্টগ্রামে অনুশীলন ক্যাম্পের তৃতীয় দিনে সোমবার সেই রোমাঞ্চ উঠে এলো মুশফিকের কণ্ঠে।
“অবশ্যই রোমাঞ্চিত যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলব। সব দলের সঙ্গেই খেলা হয়েছে, শুধু অস্ট্রেলিয়া বাকি ছিল। এবার অনেক বড় সুযোগ। শুধু আমার জন্য না, আমাদের দলের জন্যও। এখন যারা খেলছে, তাদের মধ্যে কেবল মাশরাফি ভাই খেলেছেন অনেক দিন আগে। সবাই জানে চ্যালেঞ্জটা অনেক কঠিন। কিন্তু আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে যে আমরা অস্ট্রেলিয়াকে কঠিন সময় দিতে পারব, যেটা ইংল্যান্ডকে দিতে পেরেছি।”
টেস্ট অধিনায়কের মতে, দীর্ঘ সময় অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলতে না পারার যে আক্ষেপ, সেটা ঘোচানো সম্ভব মাঠের ক্রিকেটে জয় দিয়ে।
“সিরিজটা ভালোভাবে শেষ করতে পারলে এতদিন না খেলার আক্ষেপটা থাকবে না। মনেপ্রাণে চেষ্টা করতে চাই এবার। কারণ জানি না আবার কবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলার সুযোগ আসবে। ১২ বছরে অনেক কিছুই শিখেছি টেস্ট ক্রিকেটে। চেষ্টা করব সবকিছু কাজে লাগিয়ে ফল আমাদের পক্ষে নিয়ে আসতে।”
দলের লক্ষ্য তো অধিনায়ক জানালেনই। এর আগে কোচও বলেছেন, অস্ট্রেলিয়াকে দুটি টেস্টেই হারাত চায় দল। তবে দেশের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন হিসেবে তো ব্যক্তিগত লক্ষ্যও থকে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ যখন অস্ট্রেলিয়া, যাদের বিপক্ষে পারফরম্যান্সকে গোণায় ধরা হয় আলাদা করে।
ব্যক্তিগত লক্ষ্যের কথা বললেন মুশফিক। তবে অধিনায়ক তো, নিজের চাওয়ার সঙ্গেও মিশে গেল দলের চাওয়া।
“তারা শীর্ষ দলের একটা। শুধু দেশের মাটিতে না, উপমহাদেশেও ভালো খেলে। আমি মনে করি যে এরকম পেশাদার দলের সঙ্গে খেললে সবারই লক্ষ্য থাকে ভালো করার। আমারও ইচ্ছে আছে। তবে আমি প্রতিটি ম্যাচই এক ভাবে দেখি, জিম্বাবুয়ে হোক বা অস্ট্রেলিয়া।”
“যেটা বলছিলাম, এটা অনেক বড় সুযোগ নিজেদের মাঠে অনেকদিন পর খেলা হবে। শুধু আমি না, বাংলাদেশের দর্শকেরা অনেক রোমাঞ্চিত, কারণ অনেক দিন পর দেশের মাটিতে খেলা হবে। তারা অধীর অপেক্ষায় আছে। আমরা আমাদের সেরাটা খেলতে পারলে আশা করি ফল ভালো হবে।”
কোচের চাওয়া জয়, অধিনায়কের কণ্ঠেও একই উচ্চারণ। দলের বাকিদের শরীরী ভাষাতেও প্রত্যয়। এই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন এবার মাঠে পড়ার অপেক্ষা!